শেকসপিয়ারের আসল নাম শেখ জুবায়ের!

মুফতি ইব্রাহিম এবার বিখ্যাত ব্রিটিশ নাট্যকার ও সাহিত্যিক উইলিয়াম শেকসপিয়ারকে নিয়ে কথা বলেছেন। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়- মুফতি ইব্রাহিম বলছেন, 'শেকসপিয়ারের আসল নাম শেখ জুবায়ের। তিনি আরবের লোক’। ভিডিওটি দেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভিডিওতে মুফতি ইব্রাহিমকে দেখা যায় একটি ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতা করছেন। এ বিষয়ে মুফতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেটি সম্ভবত ১০-১২ বছর আগের। আমি মাহফিলে যে বক্তব্য দিয়েছি, সেটি বলেছিলেন লিবিয়ার গাদ্দাফি। উনি বলেছিলেন আরবের যেসব পরিবার হিজরত করেছিল তাদেরই বংশধর শেক্‌সপিয়ার। কথাটি আমি প্রথম গাদ্দাফির বক্তব্যেই শুনেছি।'

তিনি বলেন, ইংরেজদের নামের পরিবর্তনের ধারায় শেক্‌সপিয়ার নামটিও পরিবর্তন হয়েছে। যেমনটা পরিবর্তন হয়েছে ইসহাক থেকে আইজাক, ইবনে সিনা, এবেসিনা, ইউসুফ থেকে যোশেফ।

শেকসপিয়ারের মুসলিম বংশোদ্ভুত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইউরোপেও কিছু গুজব প্রচলিত আছে। ইউরোপীয় ঐতিহাসিকদের কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে, উইলিয়াম শেক্‌সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক ওথেলো’র অনুপ্রেরণা ছিলেন আবদ আল ওয়াহিদ বিন মাসউদ বিন মুহাম্মদ আল-আনুরি নামের এক মরোক্কান রাজদূত, যিনি ১৬০০ থেকে ১৬০১ সালের মধ্যে ছয় মাস লন্ডনে অবস্থান করেছিলেন। ওথেলো প্রথম মঞ্চায়িত হয়েছিল ১৬০৪ সালে।

ইউরোপ এবং 'ইসলামী বিশ্বের' মধ্যে প্রথম আদান-প্রদান শুরু হয়েছিল মধ্যযুগে, যা ক্রুসেড এবং ইউরোপীয় ও আরব মুসলমানদের মধ্যে সাংস্কৃতিক এবং বৈজ্ঞানিক সংলাপের যুগও ছিল।

নাবিল মাতারের ‘ব্রিটেনে ইসলাম, ১৫৫৮-১৬৮৫’ বইতে বলা হয় যে, ১৬ এবং ১৭ শতকে ব্রিটেনে ইসলামের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল।

হুমায়ূন আনসারী দেখান যে, অনেক মুসলিম পণ্ডিত, কূটনীতিক, মুক্ত দাস, এবং বণিক ১২ শতকের পর থেকেই ব্রিটেনে যাওয়া শুরু করেন।

আল-আনুরি ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন রানী প্রথম এলিজাবেথ এর আমন্ত্রণে। তিনি অজানা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে একটি টেকসই এবং পারস্পরিক উপকারী সম্পর্ক তৈরির স্বপ্ন থেকেই তাকে আমন্ত্রণ জানান। ১৫৭০ সালে পোপ পায়াস পঞ্চম রানী প্রথম এলিজাবেথকে বহিষ্কার করেছিলেন। এলিজাবেথের প্রোটেস্ট্যান্ট বিশ্বাসের শাস্তি হিসেবে পোপ তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেন। এলিজাবেথ তার বাবা অষ্টম হেনরির সংস্কারকৃত প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ক্যাথলিক ইউরোপ থেকে এই বঞ্চনার পর, রানী প্রথম এলিজাবেথ তুরস্ক, পারস্য এবং মরক্কোর সঙ্গে বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে শুরু করেন।

সুন্নি মুসলিমদের ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে প্রোটেস্ট্যান্টরা মূর্তি পূজা এবং একটি পবিত্র বইয়ের পূজার বিরুদ্ধে তাদের যে সংগ্রাম তার প্রতিফলন দেখেছিলেন। ব্রোটন বলেন যে, ইসলামকে ‘এমন বিশ্বাস হিসেবে দেখা হয়েছিল যার সঙ্গে ইংল্যান্ড ব্যবসা করতে পারে’।

১৬০৫ সালে শেক্‌সপিয়ারের দ্য মার্চেন্ট অব ভেনিস প্রথম প্রদর্শিত হয়েছিল। এতে দামি পোশাক পরিহিত একজন মানুষের চরিত্র ছিল, যিনি ছিলেন মূলত মরক্কোর প্রিন্স। যিনি সুন্দর এবং বুদ্ধিমান নায়িকা পোর্শিয়াকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন।

ম্যাথিউ ডিমমক নামের আরেক পণ্ডিত দাবি করেন, ‘ইসলাম ছাড়া শেক্সপিয়ার হওয়াই সম্ভব ছিল না’।

লিংস এবং অন্যদের সুফি পাণ্ডিত্যের ওপর ভিত্তি করে, কেউ কেউ এই তত্ত্ব তৈরি করেছেন যে, শেক্সপিয়ার প্রকৃতপক্ষে শেখ জুবায়ের নামের একজন ইরাকি ছিলেন। এ দাবির অবশ্য কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই। তবে এটাও অনস্বীকার্য যে, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলে শেক্সপিয়ারের নাটক এত ঐশ্বর্যপূর্ণ, মশলাদার বা রাজনৈতিক হতো না।

এর আগে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের শুরুর দিকে ভাইরাসটি নিয়ে বক্তব্য দিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মুফতি ইব্রাহিম। ওই সময় করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে উদ্ভট কথা বলেছিলেন তিনি। মামুন মারুফ নামে একজন ইতালি প্রবাসী নাকি তাঁকে ফোন করে করোনা নিয়ে তার স্বপ্নে দেখা কথা জানিয়েছিলেন। করোনা ভাইরাস নাকি তাকে স্বপ্নে বলেছে, আমরা এসেই চলে যাচ্ছি না। বরং পৃথিবির সাত ভাগের এক ভাগ লোককে মেরে যাব। ১ বিলিয়নের বেশি। ইরানের পরে দক্ষিণ আমেরিকায় আক্রমণ করবো। সবচেয়ে বেশি বৌদ্ধদের। এর পর আরবদেরকে। বাংলাদেশিদের ধরব না। দেশের নাস্তিকদের ধরব। সামনের বছর আমরা ‘১৯’ থেকে নতুন ভার্শনে আপডেটেড হয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ধরব। নামাজিদের ধরব না। কারণ তাদের অজুর আলো আছে। ইহুদিদের ধরব না। তাদের করোনায় ক্ষতি হবে না। তবে জেরুজালেমের আশে পাশে মুক্ত করে মুসলিমদের হাতে ছেড়ে দেবে। ভারতে নিচ থেকে উপরে আক্রমণ করবো।

এ বিষয়ে মুফতি ইব্রাহিম সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, মামুন মারুফ ইতালিতে থাকে, সে বাঙালি কিন্তু ইতালিপ্রবাসী। আমি তো তাঁকে চিনি না। আমার ভক্ত আছে এ দেশে ১০-১৫ কোটি। আমি ২০ বছর ধরে মিডিয়াতে কাজ করি। বিটিভিসহ দেশের প্রায় সব টেলিভিশনেই কথা বলেছি। সে কারণে বাংলাদেশের প্রায় সব মানুষই আমাকে চেনে, মামুনও চেনে। মামুন আমার ফোন নম্বর জোগাড় করেছে বহু কষ্টে। আমি তো সবার ফোন ধরি না। পরে আমার পিএস সাহেবকে দিয়ে বহু কষ্টে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

তিনি আরও বলেছিলেন, মানুষ বিভিন্ন সময় ধারণা করে। সেই ধারণা ভুল হতে পারে, সেটা আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ সত্যি হতে পারে। বিভিন্ন কারণ থেকে মানুষ কথা বলে, কিন্তু এসব তো রোখার সাধ্য নেই কারও।মানুষ নিজের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে কথাগুলো বলে। যেমন- অনেকেই মন্তব্য করেছে ভাইরাস আবার কথা বলে নাকি? কিন্তু সে জানে না পৃথিবীর সব সৃষ্টিই কথা বলার পাওয়ার রাখে। হাশরের দিন এই মাটির পৃথিবী সমস্ত সংবাদ পরিবেশন করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার কোম্পানির তৈরি করোনার টিকা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ফাইজারের টিকা ফাইজার নামে তুরস্কের একটি ছেলে আবিষ্কার করেছে। সে আসলে মুসলিম।