আড়াই মাসের শিশুকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেন মা ও দাদি

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় চাঞ্চল্যকর আড়াই মাসের শিশু সুমাইয়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে শিশুটির মা ও দাদি। দাদি, আদালতের ১৬৪ ধারায় এবং মা পুলিশের রিমান্ডে এই দায় স্বীকার করেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৩ (বোচাগঞ্জ) এর বিচারক শারমিন আক্তারের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে দাদি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এর আগে পুলিশের রিমান্ডে মা মাসতারা বেগম ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর নিহত শিশুর মা মাসতারা বেগম (২০) ও দাদি রীনা বেগম (৫০) কে পুলিশ আটক করে। আটকের পর পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করে নিহত শিশুর মা মাসতারা বেগমের দুই দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। রিমান্ডে মাসতারা বেগম শিশু নিহতের ঘটনার বর্ণনা দেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের দাদি রীনা বেগম নিজের দোষ স্বীকার করে বিচারকের নিকট জবানবন্দি প্রদান করে।

জবানবন্দিতে রীনা বেগম বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাড়িতে একটি চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বউ ও শাশুড়ির মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে নিজের কোল থেকে বউ মাসতারা বেগমের দিকে আড়াই মাসের শিশু সুমাইয়াকে ছুড়ে দেয়। এ সময় সুমাইয়াকে ধরতে অপ্রস্তুত থাকায় শিশুটি পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় শিশুটি। পরবর্তীতে বউ ও শাশুড়ি যোগসাজশ করে বাড়ির পাশের পুকুরে শিশুর মরদেহ ফেলে দেয়। পরে তারা আশপাশের লোকজনকে জড়ো করে জানায় ‘শিশু সুমাইয়াকে বাড়িতে কে বা কারা ছিনতাই করে নিয়ে পালিয়ে গেছে।’ পরদিন সকালে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

৬ সেপ্টেম্বর মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিশুর মা মাসতারা বেগম বাদী হয়ে বোচাগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বোচাগঞ্জ থানার ওসি মাহামুদুল হাসান জানান, আজ বুধবার নিহতের মা মাসতারা বেগমকে আদালতে সোপর্দ করা হবে জবানবন্দি প্রদানের জন্য।