সালিশে জরিমানা নিয়ে বিরোধে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

বগুড়ায় সালিশে জরিমানার ৩০ হাজার টাকা আদায় করা নিয়ে বিরোধে হাসান সরকার (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার রাতে হাসান সরকারকে কুপিয়ে জখম করা হয়। শনিবার সকালে হাসান সরকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নিহত হাসান সরকার বগুড়া পৌর এলাকার পালশা সরকার পাড়ার মৃত সামছু সরকারের ছেলে।

নিহত হাসানের ছেলে জাকির সরকার মৃদুল জানান, তার (মৃদুলের) স্বামী পরিত্যক্ত চাচাতো বোনের সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের একটি ছবি একই এলাকার রুপম নামের এক যুবক হাতে পায়।

এরপর থেকে রুপম তার বোনের সাথে সম্পর্ক করতে চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু তিনি সম্মত না হলে রুপম ওই ছবি বিভিন্নজনের মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেয়।

মৃদুল আরও বলেন, তার বোন একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির শো-রুমে চাকরি করতেন। সেখানেও ছবি পাঠানো হয়। এতে করে তার বোনের চাকরি চলে যায়। পরে এ বিষয়ে মেয়ের অভিভাবক হিসেবে হাসান সরকার স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরের কাছে নালিশ করেন।

কয়েক দিন আগে পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম এলাকায় সালিশ বসিয়ে রুপমকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তাৎক্ষণিক জরিমানার টাকা না দিলেও সালিশ মেনে নিয়ে টাকা পরে দেবে বলে জানান রুপম।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরতলীর ভবের বাজার এলাকার মেহেরা পাম্পের সামনে জরিমানার টাকা নিয়ে রুপমের সঙ্গে হাসান সরকারের তর্ক-বিতর্ক হয়।

সেখান থকে হাসান বাড়ি ফেরার পথে রুপম ধারালো অস্ত্র নিয়ে পেছন থেকে হামলা করে হাসান সরকারের মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত হাসানকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তিনি মারা যান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আব্দুর রশিদ বলেন, ঘটনার পর থেকেই রুপম পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ ময়নাতদন্ত করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, শুক্রবার হাসানের ছেলে হামলার ঘটনায় যে মামলা দায়ের করেছেন সেটিই এখন হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তর হবে।