ডাক্তার নন, তবু দেখেন রোগী, সাইনবোর্ডে নামের পাশে অনেক পদবি

এমবিবিএস পাশ না করেও নামের আগে লিখেন ডাক্তার। দু-একটা ছোট খাট কোর্স করে প্রাইভেট ক্লিনিকে বসে গাইনী, শিশু ও প্রসূতি রোগী দেখেন নিয়মিত। পাশাপাশি দেখন অলট্রাও। এমন ডাক্তারের খোঁজ পাওয়া গেছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় পৌরশহরে। ডাক্তারের নাম শাহনাজ ইসলাম মিমি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়মিত রোগী দেখেন তিনি।

শাহনাজ ইসলাম মিমি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ‘আল মদিনা’, ‘আদর্শ ল্যাব’ ও ‘লাইফ কেয়ার’ এই তিনটি ক্লিনিকে নিয়মিত রোগী দেখেন। পাশাপাশি করেন আলট্রা পরীক্ষা। এর মধ্যে লাইফ কেয়ারে আছে নিজস্ব চেম্বার।

একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের মালিক নাম প্রকাশ না করে বলেন, দালালদের আড্ডা মিমির চেম্বারে। গ্রামের রোগীদের ভুলভাল বুঝিয়ে এখানে নিয়ে আসে। পরে রিপোর্ট উল্টাপাল্টা আসে। এ নিয়ে ঝামেলা হয় শুনি।

পৌরশহরের বাসিন্দা রনি আহমেদ জানায়, অবৈধ ক্লিনিক, ভুয়া ডাক্তার ও ভুয়া রিপোর্টের কারণে এখানকার চিকিৎসার প্রতি মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। প্রায় সময় দেখা যায়, একই রোগীর এখানে একরকম রিপোর্ট নেত্রকোনা গিয়ে করালে রিপোর্ট আসে ভিন্ন। সংশ্লিষ্টদের উচিত এই বিষয়টিতে নজর দিয়ে সবকিছু নিয়মে আনা।

শাহনাজ ইসলাম মিমির চেম্বারের সামনে থাকা সাইনবোর্ড ও তার ভিজিটিং কার্ডে চিকিৎসা বিষয়ে পড়াশোনার যোগ্যতা হিসেবে লেখা রয়েছে- বিএসসি, এমএসসি, ডিএমএফ (ঢাকা)। এ ছাড়া আলট্রাসনোগ্রাফি সিএমইউ (বিটিইবি) ঢাকা ও এমসিএইচ (ঢাকা শিশু হাসপাতাল)। পাশাপাশি শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের (টাঙ্গাইল) সাবেক উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহনাজ ইসলাম মিমি বলেন, আলট্রা করার প্রশিক্ষণ আছে আমার। রেজিস্ট্রেশন নম্বর সাইনবোর্ডে দেওয়া আছে। চাইলে ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে সত্যতা যাচাই করে দেখতে পারেন। আমি শুধু আমার রোগীর আলট্রা করি। বাইরের কোন রোগীর আলট্রা করি না। রোগী দেখাসহ কোনো কিছুতেই অনিয়ম করেননি বলে দাবি তার।

এসব বিষয়ে মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সুবীর সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এমবিবিএস পাশ না করে নামের আগে ডাক্তার লেখার নিয়ম নেই। সেই সঙ্গে এমবিবিএস পাশ ছাড়া কেউ আলট্রাও করতে পারেন না।

মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর মোহাম্মদ শামছুল আলম বলেন, এসব কোন কিছু করার যোগ্যতা তার নেই। পুরোটাই অনিয়ম করছেন মিমি। এসব অনিয়ম রোধে ফের অভিযান চালানো হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি বলেন, এসব অনিয়ম বন্ধে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে যত্রতত্রভাবে গড়ে ওঠা প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে যৌথ অভিযান চালায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন। এতে অনুমোদনহীন সাত প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়। পাশাপাশি আগাম রিপোর্ট তৈরি করে রাখায় একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অনেক প্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধ করে সটকে পড়েন মালিকপক্ষ।