সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাকরির প্রলোভন ও বন্ধুত্ব করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ। তারা হলো মো. কবির হোসেন, মো. শামসুল কবীর ও মো. ইয়াছিন আলী। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ২৫৭টি চেক বই, ২৩৪টি ডেবিট কার্ড ও ৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গতকাল শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ফেইসবুকের মাধ্যমে কানাডায় লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এক ভুক্তভোগী গত ১৬ সেপ্টেম্বর কদমতলী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতারণা করে থাকে। এই চক্রের একটি গ্রুপ প্রথমে ভিকটিমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে তার সঙ্গে নিবিড় বন্ধুত্ব গড়ে তুলে এবং ফেইসবুকে বিদেশে চাকরির অফার দিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের সঙ্গে হোয়াটস অ্যাপ, মেসেঞ্জার এবং ইমেইলে যোগাযোগ করে। এরপর চাকরি প্রত্যাশীদের কাছে বিভিন্ন ফি’র বাহানায় টাকা জমা দিতে বলে। হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর প্রদান করে। ফেইসবুকে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উপহার পাঠানোর কথা বলে কাস্টমস কর্মকর্তা সেজে ফোন করে। ২য় গ্রুপের কাজ হলো বিভিন্ন নামে ব্যাংক হিসাব খোলা। এসব হিসাবধারী কমিশনের বিনিময়ে নিজের বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব খুলতে থাকে এবং ঘনঘন বাসা এবং মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে। এই চক্রের ৩য় গ্রুপ এসব ব্যাংক হিসাবধারীদের স্বাক্ষরিত চেকবইয়ের পাতা, এটিএম কার্ড এবং কার্ডপিন কুরিয়ারের মাধ্যমে সংগ্রহ করে। ৪র্থ গ্রুপ প্রতিদিন ভিকটিমদের জমাকৃত টাকা চেক বা কার্ডের মাধ্যমে উত্তোলন করে একজন ম্যানেজারের হাতে তুলে দেয়। ম্যানেজার এই টাকা তাদের কথিত বসের হাতে পৌঁছায়। এভাবে সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।’