নবম-দশম শ্রেণি

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

পঞ্চম অধ্যায়

বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ

সৃজনশীল

১. অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী পপি পরীক্ষার পর তার বাবা মায়ের সঙ্গে ময়মনসিংহে বেড়াতে যায়। সেখানে তারা একটি নদী দেখতে পায়, যার উৎপত্তিস্থল তিব্বতের মানস সরোবরে। নদীটি প্রাকৃতিক কারণে গতিপথ পরিবর্তন করে অন্য নাম ধারণ করে। এ নদীটি পরবর্তী সময়ে চাঁদপুরের কাছে এসে অন্য একটি নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। এ নদীর মাধ্যমে ওই এলাকার বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে।

ক. জলবিদ্যুৎ কী?

খ. আমাদের নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে কেন?

গ. উদ্দীপকের পপির দেখা নদীটির গতিপথ ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের শেষোক্ত নদীটির সঙ্গে ওই এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. নদী ও জলপ্রপাতের জলের বেগ ব্যবহার করে টার্বাইন যন্ত্রের সাহায্যে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তাকে জলবিদ্যুৎ বলে।

খ. আমাদের নদীগুলো প্রবাহ হারালে দীর্ঘদিন ধরে নদীকে কেন্দ্র করে যেসব পেশার মানুষ জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে তাদের জীবনে অভাব-অনটন নতুনভাবে সৃষ্টি হতে পারে। নদীর তীরে যেসব গাছপালা, বাগান, বাড়ি, সবুজ বৃক্ষের সমারোহ গড়ে উঠেছে সেগুলো পানির অভাবে নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে মানুষ, মাছ, পশুপাখি ও গাছ-তরুলতার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। এজন্য আমাদের নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে। এর জন্য নদীতে নিয়মিত খনন করা, অপ্রয়োজনীয় বাঁধ, পুল-কালর্ভাট নির্মাণ না করা, পানির প্রবাহ ঠিক রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।

গ. উদ্দীপকের পপি ময়মনসিংহে বেড়াতে গিয়ে যে নদীটি দেখেছিল সেটির উৎপত্তি তিব্বতের মানস সরোবরে। পরবর্তী সময়ে গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে অন্য একটি নামধারণ করে। মূলত পপির দেখা নদীটি হলো ব্রহ্মপুত্র যা পরবর্তী সময়ে যমুনা নামধারণ করে। তিব্বতের মানস সরোবরে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হয়েছে। আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় এটি প্রবেশ করেছে। ১৭৮৭ সালের আগে ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারাটি ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত হতো। কিন্তু ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার শাখানদী সৃষ্টি হয়। নতুন স্রোতধারাটি যমুনা নামে পরিচিত হয়। এটি দক্ষিণে গোয়ালন্দ পর্যন্ত যমুনা নদী বলে পরিচিত। গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মা নামধারণ করেছে। যমুনার  শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা, ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই ইত্যাদি হলো যমুনার উপনদী। গঙ্গার সঙ্গমস্থল পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের দৈর্ঘ্য ২৮৯৭ কিলোমিটার এবং অববাহিকার আয়তন ৫৮০১৬০ বর্গ কিলোমিটার। এর ৪৪০৩০ বর্গ কিলোমিটার বাংলাদেশে অবস্থিত।

ঘ. উদ্দীপকের শেষোক্ত নদীটির নাম হলো মেঘনা। মেঘনা নদীর সঙ্গে ওই এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক সম্পর্ক খুবই গভীর। নদ-নদীকে কেন্দ্র করে মানুষ খাদ্যোৎপাদন, মাছ শিকার, পণ্য পরিবহন, ব্যবসায়-বাণিজ্য ইত্যাদি গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থায়ী বসতি হিসেবে গ্রাম ও শহর গড়ে উঠেছে। নদীগুলো পানিসম্পদে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার সর্বাধিক বিস্তার ঘটেছে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে। ফলে অধিকাংশ শহর, গঞ্জ (বাণিজ্য) গড়ে উঠেছে বিভিন্ন নদীর তীরে। যেমন বুড়িঙ্গার তীরে ঢাকা, কর্ণফুলীর তীরে চট্টগ্রাম, শীতলক্ষ্যার তীরে নারায়ণগঞ্জ, মেঘনার তীরে চাঁদপুর, সুরমার তীরে সিলেট, গোমতীর তীরে কুমিল্লা ইত্যাদি। মেঘনা নদী থেকে পানি নিয়ে বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার চাষাবাদ উন্নত করা সম্ভব হচ্ছে। সারা দেশেই নদীর পানিকে ব্যবহার করে বিভিন্ন কৃষি পরিকল্পনা বিস্তৃত হচ্ছে। এর ফলে দেশের কৃষি অর্থনীতি দিন দিন উন্নত হচ্ছে, মানুষের কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নদী পথে দিন দিন লঞ্চ, স্টিমারের ব্যবহার সম্প্রসারিত হচ্ছে। পরিবহনের জন্য নদীপথকে বাছাই করা হচ্ছে। ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার ক্ষেত্রেও নদী ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সুতরাং, বলা যায় মেঘনাপাড়ের মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের উন্নতির পাশাপাশি সারাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ নদীটি ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।