তালেবানরা আফগানিস্তান দখলের পর থেকে রাজধানী কাবুলের অধিকাংশ স্কুল বন্ধ আছে। তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর বলেছিল, তারা তাদের কট্টরপন্থা থেকে সরে এসে মেয়েদের অধিকার দেবে। তাদের পড়ালেখা, বাড়ির বাইরে কাজ করতে দেবে। তবে, এখন তারা বলছে, মেয়েরা পড়তে পারবে তবে পৃথক শ্রেণিকক্ষে।
শনিবার আফগান মেয়ে শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ফিরে আসে। আবার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারবে কিনা এ নিয়েও চিন্তা তৈরি হয়েছে। খবর: রয়টার্স
এদিকে গত শুক্রবার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্রুত ছেলেদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো আবার চালু করা হবে। তবে, মেয়েদের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
এ অবস্থায়, আফগানিস্তানের একজন শিক্ষক মোহাম্মদরেজা মন্তব্য করেছেন, ‘ছেলেরা শিক্ষিত হলে পরিবার বদলায় আর মেয়েরা শিক্ষিত হলে সমাজ বদলে যায়।’ মেয়েদের স্কুলে ফিরতে দেওয়া দরকার বলেও জানান তিনি।
বর্তমান কেমন শিক্ষাকার্যক্রম হচ্ছে জানতে চাইলে কাবুলের একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক নাজিফ জানান, তালেবানরা ক্ষমতায় আসার আগে আমাদের ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে ক্লাস করত। এখন তা পরিবর্তন হয়েছে। এখন মেয়েরা সকালে এবং ছেলেরা বিকেলে ক্লাস করছে। পুরুষ শিক্ষকেরা ছেলেদের এবং মহিলা শিক্ষকেরা মেয়েদের পড়ান।
ছাত্রীরা স্কুলে ফেরার অপেক্ষা করছে জানিয়ে মাধ্যমিক স্তরের অন্যএকজন শিক্ষিকা রেজারি হাদিস বলেন, মেয়ে শিক্ষার্থীরা মনোভাব হারিয়ে ফেলছে। তারা স্কুলে ফেরার জন্য সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা করছে।
তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ শনিবার স্থানীয় ‘বখতার নিউজ সংস্থা’কে জানান, মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুনরায় খোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ খোলা হবে তা জানাননি।