ইউপি নির্বাচনে ৩ নিহতের ঘটনায় প্রার্থীদের ‘ইমোশন’ দায়ী: ইসি সচিব

ইউনিয়ন পরিষদ ( ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেছেন, প্রার্থীরা এত ইমোশনাল হয়ে যান, যে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন বলে মনে করছেন। 

সোমবার রাজধানীর নির্বাচন কমিশনে ভোট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। অনেকটা প্রতিপক্ষহীন এ নির্বাচনে তিনটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জে, কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবাদিয়া এলাকায়। 

বিচ্ছিন্নভাবে কিছু এলাকায় সহিংসতা, অনিয়ম, গোলযোগ, বর্জন ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে শেষ হয় প্রথম ধাপের আটকে থাকা ১৬০ ইউপিসহ ৯ পৌরসভার ভোট।

ইসি সচিব বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য খুব বেদনাদায়ক, দুঃখজনক ঘটনা যে মহেশখালী এবং কুতুবদিয়ায় দুজন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ২৪ জন লোক বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থিদের নিজেদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত হয়েছেন। এ ছাড়া মোটামুটি সব জায়গায় আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়েছে’।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে। ইভিএমে ইউনিয়নে ৫০ শতাংশ এবং পৌরসভায় ৫০ শতাংশে বেশি ভোট পড়েছে। আর ব্যালটে ৬৫ শতাংশের হবে বলে আশা করি।’ 
হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, ‘গতকাল (রোববার) রাতে যেটা হয়েছে, প্রার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের ফলে একজন বৃদ্ধ মহিলা কোনোভাবে ধাক্কা খেয়ে নিহত হয়েছেন বলে আমরা জেনেছি। এটি তদন্ত করে দেখার জন্য বলেছি।’

তিনি জানান, কুতুবদিয়ায় একদল সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়। তখন আইন শৃঙ্খলাবাহিনী গুলি করে, সর্বোচ্চভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

ইউপি নির্বাচনে দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না মন্তব্য করে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এলাকার সব মানুষ অংশগ্রহণ করে। তারা খুব বেশি ইমোশনাল হয়ে যায়। তখনই এই দ্বন্দ্বগুলো হয়ে যায়। আমরা যা দেখলাম, যে ঘটনা ঘটেছে সেগুলো খতিয়ে দেখব। ভবিষ্যতে যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকবো। ’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে তা বলব না। কেউ ভোটে অংশ না নিলে, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সব নিয়ম না মানলে কিংবা কেউ প্রার্থিতা তুলে নিলেও অন্য একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবে।