জালভোটের অভিযোগে প্রিসাইডিং অফিসার আটক, নৌকার প্রার্থীর ভোট বর্জন

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ৭ ইউপি নির্বাচন ও কবিরহাট পৌর সভার নির্বাচনকে কেন্দ্রকরে বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেছে। জালভোট দেওয়ার অভিযোগ, কেন্দ্রদখল, ফলাফল ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটে। এতে আটক হয়েছে অনেকে। দেশ রূপান্তরের নোয়াখালী প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিবেদনে এসব উঠে এসেছে।

আ. লীগ দুজন স্বতন্ত্র জন প্রার্থী মিলে জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট বর্জন: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায়, কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের হুমকির অভিযোগে নোয়াখালীর হাতিয়ার বুড়ির চর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লোল, জাহাজমারা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এটিএম সিরাজ উদ্দিন, চরঈশ্বর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল হালিম আজাদ (আনারস), সোনাদিয়া বিদ্রোহী প্রার্থী (মোটরসাইকেল) নুরুল ইসলাম, তমরুদ্দি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম ও নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী (মোটরসাইকেল) মেহেরাজ উদ্দিন ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

হাতিয়া উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যারমধ্যে আ. লীগ দুজন, স্বতন্ত্র ৪ জন সহ ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। সোমবার সকাল ৯-১১টার মধ্যে এসব চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী অভিযোগ করেন, হাতিয়ায় নির্বাচন করতে হলে হতে হবে সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর আশীর্বাদপুষ্ট। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নৌকা প্রতীক পেয়েও মোহাম্মদ আলীর বিরোধীতার কারণে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, হুমকির অভিযোগ, এজেন্টদের বের করে দেওয়া সহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক এমপি ও হাতিয়া উপজেলা আ. লীগের বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ আলী অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, আ. লীগের দুই প্রার্থী নির্বাচনের আগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এ ধরনের অভিযোগ করছে। আমরা চেয়েছি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন, নির্বাচনে যেই আসুক তাতে আমাদের সমস্যা নেই।

এদিকে কবিরহাট পৌরসভায় মেয়র পদে আ. লীগ প্রার্থী জহিরুল হক রায়হান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় শুধুমাত্র কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তবে সুবর্ণচর উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টি ও কাদা মাটি উপেক্ষা করে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে পুরুষের তুলনায় নারীদের উপস্থিতি বেশি ছিল। কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনের তৎপরতা ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসার সদস্যরা। টহলে রয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব পুলিশের মোবাইল টিম।

হাতিয়ায় সহকারী প্রিসাইডিং পোলিং অফিসার আটক: নোয়াখালীর হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়ন ও জাহাজমারা ইউনিয়নে দুটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় দুই প্রিসাইডিং অফিসারকে আটক করেছে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.কামরুল হোসেন চৌধুরী ও হাফিজুল হক।

আটকেরা হলেন, হরনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান, চৌমুহনী আরাফিয়া সিনিয়র আলিয়া মাদ্রাসার সহকারী মৌলভি সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন। সরিষার হোসাইনিয়া মাদ্রাসা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার আহমেদ রাফি, পশ্চিম সোনাদিয়া চর ঈশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্ল্যা।

আটক পোলিং অফিসাররা হলেন, দক্ষিণ-পূর্ব কালাম মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পোলিং অফিসার মুন্নি বেগম, মধ্যম মাইজচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পোলিং অফিসার ফারজানা আক্তার।

সোমবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়া মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাহবুব ও বেলায়েত আটক করা হয়। অপর ২ প্রিসাইডিং ও ২ পোলিং অফিসারকে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের হাজী মোজাম্মেল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানান, সোমবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়া মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়   কেন্দ্রের দুই সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ভোটারবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন মার্কায় সিল মারছে। এ সময় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী দুই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

অপরদিকে, অপর ২ প্রিসাইডিং ও ২ পোলিং অফিসারকে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের হাজি মোজাম্মেল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুল হক।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা যে সিদ্ধান্ত দেবে ওই অনুসারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কবিরহাটে নির্বাচনী ফলাফল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আটক-৭: নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভা নির্বাচনে নির্বাচনী ফলাফল না মেনে প্রিসাইডিং অফিসারের টেবিল থেকে প্রিন্ট করা নির্বাচনী ফলাফল সিটের  পাতা নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ৭জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটকেরা হলো, কবিরহাট পৌরসভার জৈনপুর গ্রামের দিলদার হোসেন (২৬), একই গ্রামের মো. ইব্রাহীম খলীল (৩৫) মো. জহির উদ্দিন (৪০), মো. বাবুল (৩৬), আব্দুল্লাহ আল হাসান পারভেজ (২০), মো. গোলাম সারোয়ার (৫২) ও পূর্ব ফতেপুর গ্রামের সালেহা আক্তার।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কবিরহাট সরকারি কলেজের ১ নম্বর ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কবিরহাট পৌরসভা নির্বাচনে কবিরহাট সরকারি কলেজ কেন্দ্রে বিকেল ৫টার দিকে নির্বাচনী ফলাফল না মেনে প্রিসাইডিং অফিসারের টেবিলের সামনে থেকে প্রিন্ট করা নির্বাচনী ফলাফলের সিটের পাতা নিয়ে চলে যায় আটককৃতরা। পরে তাৎক্ষণিক পুলিশ তাদের আটক করে। কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।