নতুন প্রেসিডেন্ট চাইছেন পাপন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন হবে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে। সেই নির্বাচনে নিজের কোনো প্যানেল গঠন না করার কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তার চাওয়া এবার উঠে আসুক নতুন নেতৃত্ব, নতুন প্রেসিডেন্ট। যাকে সব সময় পাশে থেকে সমর্থন জুগিয়ে সহযোগিতা করতে চান বর্তমান প্রেসিডেন্ট পাপন।

গতকাল ছিল বিসিবির বর্তমান কমিটির শেষ সভা। সংখ্যার হিসাবে ১২তম। মিরপুরে সেই সভা শেষে নাজমুল হাসান পাপন আসন্ন নির্বাচনে নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানালেন। তাই এবার কোনো প্যানেল দেননি। যেকোনো প্রার্থীর জন্যই প্রেসিডেন্ট পদ খোলা রেখেছেন। এমনকি নিজেও পরিচালক হিসেবেই নির্বাচন করছেন। তবে পাপন বললেন, পরিচালক হিসেবে জিতে এলে প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে পরামর্শ দেবেন। তবে প্রতিবারের মতো প্রথা ভাঙার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

২০১২ সালে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বিসিবি প্রেসিডেন্ট হন পাপন। এরপর ২০১৩ এবং ২০১৭ সালের নির্বাচনে নিজের প্যানেল নিয়েই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। কিন্তু পাপন চাইছেন না বারবার একই প্রথা চলুক। তাই গতকালের সংবাদ সম্মেলন শেষে বলেন, ‘এবারই প্রথম আমার কোনো প্যানেল নাই, কাজেই  এবার যেহেতু প্যানেল নাই, তাই যে যেভাবে ইচ্ছা দাঁড়াতে পারে নির্বাচন হবে এবং জিতে আসতে পারে। প্রত্যেকবার প্যানেল থাকে, প্যানেল দিলে আর কেউ দাঁড়ায় না। এখন কেউ বলতে পারবে না সে আমার ক্যান্ডিডেট। এগুলো কিছু নাই। আমি আশা করব এবার ইলেকশনটা হোক। আসলে আমি যদি প্রসিডেন্ট থাকি, তাহলে আর কেউ এই পদটা নিতে চাইবে না। আমার কাছে মনে হয় এটা ভালো দিক না। আমাদের একটা পাইপলাইন থাকা উচিত। যার মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসবে। সবাই পরিচালক হতে চায় কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদের কথা উঠলে কেউ আগ্রহী হয় না।’ প্রেসিডেন্ট পদে অন্য কেউ আগ্রহ না দেখানোর কারণ কী এমন প্রশ্নে পাপন বলেন, ‘জানি না... আমার মনে হয় আমিই সমস্যা... সমস্যাটা আমিই।’

বর্তমান কমিটির শেষ সভায় আইসিসির ইভেন্ট আয়োজন নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাপন জানান, ২০২৫ ও ২০২৯ যেকোনো একটি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির একক আয়োজক হওয়ার আবেদন করেছেন তারা, ‘আমরা আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য এককভাবে আবেদন করেছি। কারণ এই ইভেন্ট করার জন্য যে কয়টা স্টেডিয়াম দরকার সেটা আমাদের আছে। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আমরা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যুগ্মভাবে আবেদন করেছি। ওই বিশ্বকাপের জন্য যে পরিমাণ স্টেডিয়াম দরকার সেটা আমাদের নেই, দুটো দেশ মিলে করা যায়। আর ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য আমরা তিনটা দেশ বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান মিলে আবেদন করেছি।’ আর এই আবেদন প্রক্রিয়ায় সরকারিভাবে পূর্ণ সহযোগিতার সুখবরও দিলেন পাপন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে স্বাক্ষর করে দেশে যেকোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এদিকে নিউজিল্যান্ড সফর স্থগিত করে পাকিস্তান ছেড়ে আসায় ক্ষতির মুখে পড়ে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। ক্ষতি পোষাতে বাংলাদেশের দিকে হাত বাড়ায় তারা। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে ছুটিতে থাকা ক্রিকেটারদের ওপর বাড়তি সিরিজের খড়গ চাপিয়ে দিতে নারাজ বিসিবি। তাই পাকিস্তানকে এই মুহূর্তে সফরে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় বিসিবি। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটার বাদে অন্য দল পাঠাতে রাজি ছিল বিসিবি। প্রেসিডেন্ট পাপন বলেন, ‘আমাদের দল লাগাতার বায়ো বাবলে ছিল, এতগুলো সিরিজ খেলার পর তারা একটু ছুটিতে আছে। সবাই ২০ দিনের ছুটিতে গিয়েছে। সবাই ওমানে যোগ দেবে। এখন ওদেরকে এনে অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে গেলে যে সময় হাতে থাকে বিশ্বকাপের আগে আমাদের যে পরিকল্পনা আছে, ওমানে গিয়ে তিনটা অনুশীলন ম্যাচ খেলব, ক্যাম্প করব, তা কঠিন হয়ে যায়। সেজন্য বলেছি জাতীয় দল মানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে যারা আছে তাদের পাঠানো (পাকিস্তানে) এই মুহূর্তে সম্ভবই না।’