শরীয়তপুরে সাংবাদিককে মারধরে আসামিদের গ্রেপ্তার দাবিতে অবস্থান

শরীয়তপুরে এটিএন বাংলা ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক রোকনুজ্জামান পারভেজকে মারধরের মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয় চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সাংবাদিক রোকনুজ্জামান পারভেজ এ ঘটনায় সদরের পালং মডেল থানায় চার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন। তিনি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বুধবার সকাল পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকরা পুলিশ সুপারের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।

এ সময় বক্তব্য রাখেন শরীয়তপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি অনল কুমার দে, সহ-সভাপতি শেখ খলিলুর রহমান, শরীয়তপুর ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক শহিদুজ্জামজন খান, সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, শরীয়তপুর প্রথম আলোর প্রতিনিধি সত্যজিৎ ঘোষ প্রমুখ। 

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা সূত্র ও সাংবাদিকরা জানায়, গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রোকনুজ্জামান পারভেজ শরীয়তপুর পৌরসভার পালং এলাকার তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। এ সময় ২০/২৫ জন ব্যক্তি এক নারীকে রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করছিল। একপর্যায়ে তার দোকানে আশ্রয় নেন ওই নারী। তখন ওই সন্ত্রাসীদের দোকান থেকে বের হতে বলেন পারভেজ।

ঘটনাটি ভিডিও করার সময় পারভেজকে কিল-ঘুষি ও রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন তারা। এ সময় দোকান থেকে নগদ টাকাও লুট করা হয়।

হামলাকারীরা শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার ছেলে নাজমুল মাদবর ও নাঈম মাদবরের অনুসারী বলে অভিযোগ করেন রোকনুজ্জামান পারভেজ।

রোকনুজ্জামান পারভেজ বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উত্তর পালং এলাকার নাজমুল হাসান (২৫), নাইমুল হাসান নিলয় (২২), হৃদয় (২৫), রিফাতকে (২৩) ও ১০/১৫ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকরা সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুজ্জামান সেখানে আসেন।

তিনিও কিছু সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কর্মসূচিতে অবস্থান করছেন। পরে দ্রুততম সময়ে আসামি গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিলে সাংবাদিক নেতারা ওই কর্মসূচি মুলতবি করেন।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়ার কথা জানান সাংবাদিকরা।

শরীয়তপুর ইলোক্ট্রনিক্স মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান খান বলেন, আমাদের সহকর্মী গুরুতর আহত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু পুলিশের কোন সহানুভূতি নেই। পুলিশ আসামি গ্রেপ্তার করার কোন তৎপরতা দেখাচ্ছেন না। পুলিশের এ আচরণ আমাদের বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলন কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।

শরীয়তপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি অনল কুমার দে বলেন, রোকনুজ্জামান পারভেজের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনাটিতে আমরা শঙ্কিত। পুলিশ এখনো কেন আসামিদের গ্রেপ্তার করছেন না তা রহস্যজনক।

নাজমুল মাদবর ও নাঈম মদবর ঘটনার পর আত্মগোপনে আছেন। তাদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, আহত অবস্থায় রোকনুজ্জামান পারভেজকে পুলিশই উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুজ্জামান বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে।