সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের নরিনা খেয়াঘাটের উত্তরের একটি জমিতে সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষাক্ত পদার্থ মিশানো মাষকলাই বপন করেন জমির মালিক আবু বক্কার মণ্ডল। ওই বিষাক্ত পদার্থ মিশানো মাষকলাই খেয়ে ৬৫টি ঘুঘু ও ৭টি কবুতরের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের পক্ষে প্রতিনিধি রাশিদুল হাসান বন্যপ্রাণী আইনে শাহজাদপুর থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।
এদিকে এ ঘটনার ২দিন পার হলেও ওই জমি থেকে বিষাক্ত মাষকলাই অপসারণ করা হয়নি। ফলে আরও বন্যপ্রাণীর প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে পুলিশ এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ওই জমির মালিক আবু বক্কারের বিরুদ্ধে গত দুদিনেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ও বন কর্মকর্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী কর্তব্যে অবহেলার দায়ে বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবি করেছেন। ওই জমি থেকে বিষাক্ত মাষকলাই অপসারণেরও দাবি জানিয়েছে তারা। তা না-হলে আরও বন্য প্রাণীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুরের বন্যপ্রাণী সংরক্ষক মামুন বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই জমি থেকে ২৭টি ঘুঘু ও ৩টি কবুতরের মৃতদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের প্রতিনিধি রাশিদুল হাসানের কাছে জমা দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয়রা জানায়, বাকি মৃতদেহ গুলো নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যস্ততা থাকায় ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়নি। তবে প্রতিনিধির মাধ্যমে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এখন এ বিষয়ে যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা পুলিশই নেবেন। এখানে আমার আর কিছু করার নেই।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ বলেন, এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি। ফলে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর কবির বলেন, বন বিভাগের ওই কর্মকর্তার কর্তব্যে অবহেলার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।