আ.লীগে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা অনুপ্রবেশকারীদের

সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামী লীগে ফাটল ধরাচ্ছেন অনুপ্রবেশকারীরা। দলটিকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করতে একাধিক নাশকতা মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত নেতারা ঢুকে গেছেন আওয়ামী লীগে। তাদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন ত্যাগীরা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ ভুগছে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়া ও আদমজী জুট মিল বন্ধ হওয়ার পর থেকেই দলটি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হতে থাকে। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর ভেঙে ফেলা হয় আওয়ামী লীগের দুর্গ। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর দলটি ঘুরে দাঁড়ায়। তবে থেমে থাকেনি বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র। রাজপথে মোকাবিলা করার ক্ষমতা হারিয়ে বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করার কৌশল গ্রহণ করে। একাধিক নাশকতা মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াতের বহু নেতাকর্মী ঢুকে পড়েন আওয়ামী লীগে। কেউ কেউ অঙ্গসংগঠনের পদও বাগিয়ে নেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মতিন প্রধান, মিয়া মোহাম্মদ নূর উদ্দিন বিএনপি ছেড়ে মিশে গেছেন আওয়ামী লীগে। নাসিক ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক একাধিক নাশকতা মামলার আসামি মহিউদ্দিন মোল্লা ২০১৮ সালে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি ত্যাগের ষোষণা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আসিক, নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রওশন আলী, মিজমিজি কান্দাপাড়ার বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন নাজু চলছেন আওয়ামী লীগের পরিচয়ে। ডজনখানেক মামলার আসামি তাঁতীদলের নেতা সেলিম মজুমদার এখন যুবলীগের নেতা। সাইলোর জামায়াত নেতা আলী আকবর, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেতা ইসরাফিল প্রধান, থানা যুবদল নেতা আয়নাল হক, আবু খান, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামসহ শতাধিক অনুপ্রবেশকারী আধিপত্য বিস্তার করেছেন আওয়ামী লীগে।

তারা মামলার ভয়ে দল ছাড়ার নাটক করে একদিকে গ্রেপ্তার এড়াচ্ছেন, অপরদিকে আওয়ামী লীগে সৃষ্টি করছেন অভ্যন্তরীণ কোন্দল। যার বাস্তব রূপ ফুটে উঠেছে আসছে সিটি নির্বাচন ঘিরে সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কর্মিসভায়। অনুপ্রবেশকারীদের তৎপরতায় অধিকাংশ সভাতেই দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা। ক্ষোভে সভায় অংশ নেননি ত্যাগীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন প্রবীণ নেতা জানান, বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুর্গ নেই। রাজপথে অদৃশ্য হলেও তলে তলে বিএনপি-জামায়াত সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে মূল দল ও অঙ্গসংগঠনের কমিটি না হওয়ায় স্থান পাচ্ছেন না নবীনরা। কমিটি গঠন না হওয়াকেও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণ মনে করছেন তিনি।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি ইয়াছিন মিয়া বলেন, ‘আমাদের দলে হাইব্রিডের দরকার নেই। তারা গ্রেপ্তার এড়াতে আমাদের অনুষ্ঠানে এসে বসে থাকে। না করলেও যায় না। তারা যতই চেষ্টা-তদবির করুক, কমিটিতে স্থান পাবে না।’

সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, ‘কেউ মুখে মুখে বললেই আওয়ামী লীগ হয়ে যাবে না। বিএনপি ছেড়ে যারা আওয়ামী লীগের পরিচয় দেয়, তারা কেউ দলীয় ফরম পূরণ করেনি। তাই তারা আওয়ামী লীগের কেউ না। তারা কোনো কৌশলেই আওয়ামী লীগকে দুর্বল করতে পারবে না।’