নারীতে উপায়হীন তালেবান

আফগানিস্তানে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছে তালেবান। প্রথমবার ক্ষমতায় থাকার সময় আফগানিস্তানের নারীদের যে অবস্থা ছিল, তা গত বিশ বছরে অনেক পাল্টে গেছে। এখন আফগান নারীদের মধ্যে অনেকেই রাষ্ট্রীয় শীর্ষপদ থেকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-প্রকৌশলী পর্যন্ত হয়েছেন। তালেবানরা দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসেও নারীদের ওপর তাদের সাবেকি কানুন ফলাতে চাইছে। এ নিয়ে দেশটির বেশ কয়েকটি শহরে নারীরা বিক্ষোভও করছে।

নারীদের বিক্ষোভ দমনে তালেবান যোদ্ধারা কঠোর হলেও তাতে আন্দোলনের উত্তাপ কমছে না। উল্টো আফগান নারীরা আগের চেয়ে বেশি যৌক্তিকভাবে আন্দোলন করছে যা তালেবানদের জন্য স্বস্তিজনক নয়।

আফগানিস্তানের এক শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকারকর্মী সম্প্রতি বলেছেন, যদি তালেবান অর্থনৈতিক ধস ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এড়াতে চায় তাহলে আফগান নারীদের দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই তাদের। এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন প্রবীণ অ্যাক্টিভিস্ট মাহবুবা সিরাজ। প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন তলানিতে। বৈদেশিক সহায়তানির্ভর দেশটিতে সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে দাতাগোষ্ঠী। এতে শুধু দেশটির জনগণই নয়, তালেবানরা পর্যন্ত সংকটে পড়েছে।

তালেবানরা যদি বিদেশি সহায়তা অতি দ্রুত না পায়, তাহলে দেশের মধ্যে বিদ্রোহের শিকার হতে পারে এমন ভয় রয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি প্রদেশে তালেবানের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে।

৭৩ বছর বয়সী এই অ্যাক্টিভিস্ট মাহবুবা সিরাজ গত মাসে তালেবান কাবুল দখলের পরও দেশ ছাড়েননি। বাড়িতে থেকে তিনি তালেবানের মিশ্র বার্তাগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন। চেষ্টা করছেন দেশের নারীদের অধিকারের ক্ষেত্রে সামনে কী অপেক্ষা করছে। মাহবুবা সিরাজ বলেন, এটি সবার জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে।

তালেবান শাসনে ক্রমাগত নারীদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মেয়েদের মাধ্যমিক স্কুলে ফিরতে না দেওয়া, কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকতে বলা এবং কেবল পুরুষদের নিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে। তারা বলছে, এটি সাময়িক। কিন্তু অনেকেই এটিকে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন। এই অ্যাক্টিভিস্ট বলেন, প্রথমবারও তালেবান একই অজুহাতের কথা বলেছে। তারা বলেছিল, অপেক্ষা করো, আমরা সবকিছু ঠিক করে ফেলব। আমরা ছয় বছর অপেক্ষা করেছি। কিন্তু সেই দিন আর আসেনি। আফগানিস্তানের নারীরা তালেবানকে এক বিন্দু বিশ্বাস করে না।

তিনি জানান, অনেক নারী সংশয় ও গুরুতর চাপে রয়েছেন। বাড়ি থেকে বের হতে ও তালেবানের হয়রানির মুখোমুখি হতে অনেকে আতঙ্কিত। তবে তিনি আশাবাদী যে, ক্ষমতায় থাকতে হলে তালেবানকে কিছুটা সমন্বয় করতে হবে।