শ্রমিকের নবনির্মিত ঘর গুঁড়িয়ে দিল চা-বাগান কর্তৃপক্ষ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ‘অনুমতি নিয়ে’ নিজস্ব অর্থে তৈরি করা চা-শ্রমিকের একটি পাকা ঘর ভাড়াটে লোকজন নিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন চা-বাগানটির ব্যবস্থাপক। গতকাল শনিবার দুপুরে চা-শ্রমিকরা বাগানে কাজে থাকার সুযোগে এ কান্ড ঘটানো হয়। উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগানে এ ঘটনার পর থেকে শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

চা-শ্রমিক শ্রীজনম ভর (৫৫) বলেন, মহসীন টি কোম্পানির শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগানে বসতঘর নির্মাণের দাবি করলেও সহজে তা পাওয়া যায় না। তাই চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সহযোগিতায় বাগানের ব্যবস্থাপক প্রশান্ত সরকারের কাছে মৌখিকভাবে আবেদন করে তার অনুমতি নিয়ে ধারদেনা করে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে ছোট এই পাকা ঘরটি নির্মাণ করেছিলাম। কিন্তু শনিবার সকালে সব শ্রমিক কাজে যোগ দিলে না জানিয়েই অতর্কিতে শ্রীপুর গ্রামের ভাড়াটে লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবস্থাপক নিজে উপস্থিত থেকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন ঘরটি।

শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মিলন নায়েক বলেন, ব্যবস্থাপকের মৌখিক অনুমতিতেই ওই চা-শ্রমিক বসতঘর নির্মাণ করেছেন। এখন আবার ব্যবস্থাপক ভাড়াটে লোকজন এনে ঘরটি ভেঙে দিলেন।

ঘটনার বিষয়ে শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক প্রশান্ত সরকার বলেন, এই শ্রমিককে ঘর নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া এটি দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। চা-বাগানে দোকান ঘর নির্মাণের সুযোগ নেই।