নড়াইলে ৪ শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত

নড়াইলের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক ও ১ শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন শিক্ষক হাসপাতালে এবং অন্যরা সবাই বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের ৩৩ নম্বর হান্দলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনজন সহকারী শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ নড়াইল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক ও তার সন্তান একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র করোনায় আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

হান্দলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের করোনায় আক্রান্ত সহকারী শিক্ষক নাঈম পারভেজ মনি বলেন, ‘আমার জ্বরসহ করোনা উপসর্গ দেখা দিলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়া হয়। চার দিন পর গত ২২ সেপ্টেম্বর মোবাইলে ম্যাসেজ আসে যে আমার করোনা পজিটিভ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে গেলে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছি। এ ছাড়া আমাদের বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জান্নাত আরা যুথী ও স্বপ্না রানী পালের শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নমুনা দেন। তাদেরও পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। বর্তমানে ওই দুই শিক্ষিকা বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফাতেমা জোহরা বলেন, ‘আমাদের ৩৩ নম্বর হান্দলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।  এ ছাড়া মিথিলা ফারজানা নামে আরও একজন সহকারী শিক্ষিকা জ্বরসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি এবং শিক্ষার্থীদেরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।’

লোহাগড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হান্দলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রতিদিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই পাঠদান চালানো হচ্ছে। কেউ অসুস্থ হলে তাকে স্কুলে না আসার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে নড়াইল দক্ষিণ-পূর্ব মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সালমা ইয়াসমিন ও একই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ওই শিক্ষিকার ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র তাহমিদ আহমেদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হুমায়ুন কবীর জানান, দুটি স্কুলে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে।