এক সময় সারা ভারতে প্রায় রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বামপন্থী নেতা কানহাইয়া কুমার কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন। সোমবারই রাহুলের হাত থেকে কংগ্রেসের পতাকা নিয়ে হাত শিবিরে যোগ দিচ্ছেন কানহাইয়া। এরকম সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।
ভারতের একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি কানহাইয়া কুমারই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভারতের অ-বাম দলগুলিকে আক্রমণের টার্গেটে রাখলেও প্রথম থেকেই কানহাইয়া কখনও সরাসরি কংগ্রেস বা রাহুলগান্ধীকে সেভাবে আক্রমণ করেননি।
২০১৯ এ সিপিআই-এর টিকিটে বিহারের বেঙ্গুসরাই থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কানহাইয়া। সে সময় বিজেপির গিরিরাজ সিংয়ের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন। তারপর থেকেই সু-বক্তা কানহাইয়া কুমারকে দলে নিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল কংগ্রেস। আগামীকালই তা সেই চেষ্টা চূড়ান্ত ভাবে সফল হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
২০১৬ সালে রাহুল গান্ধী জেএনইউ-তে গিয়ে কানহাইয়াদের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। ছাড়া পেয়ে কনহাইয়াও রাহুলকে ধন্যবাদ জানান। তবে ২০১৯ এ যখন কানহাইয়াকে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল দেশদ্রোহীতার মমলায় তখন কংগ্রেস নেতারা এবং রাহুল গান্ধী চুপই ছিলেন।
রাজনৈতিক পণ্ডিতরা রাহুলের কংগ্রেসের নীরবতাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন যে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি কানহাইয়াকে সমর্থন করলে তাদের দেশবিরোধী হিসেবে প্রচার শুরু করত গেরুয়া শিবির। এই কারণেই ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে আরজেডি-কংগ্রেস জুটি বেগুসরাই আসনে বিজেপির গিরিরাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে কানহাইয়াকে সমর্থন করেনি। শেষ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সিংয়ের কাছে প্রায় ৪.২ লাখ ভোটে পরাজিত হন কানহাইয়া।
শেষ এক দশকে নরেন্দ্র মোদীর সামনে ঠিক কাকে কোন ইস্যুতে দাঁড় করাবে তা খুঁজে পায়নি বিজেপি বিরোধী দলগুল। ঠিক সে সময়ই ২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিতর্কের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমেড় শিরোনামে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি কানহাইয়া কুমার।
এরপর কানহাইয়ার গ্রেফতারি, ছাড়া পাওয়া, ফিরে এসে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে উমর খালিদদের পাশে নিয়ে ‘হাম ক্যায় চাহতে, আজাদি, যো তুম না দোগে আজাদি তো হাম ছিনকে লেঙ্গে আজাদি’ স্লোগান তোলা! রাতারাতি দেশের বিজেপি বিরোধীদের কাছে নায়ক হয়ে উঠেছিলেন কানহাইয়া। এরপর যমুনা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে, কানহাইয়ার কংগ্রেসে যোগদান এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।