ত্রিপুরার রাজনীতির সেকাল একাল

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যটির তিন দিকেই বাংলাদেশ। মানচিত্র দেখলে মনে হবে রাজ্যটি বাংলাদেশের পেটের মধ্যে ঢুকে রয়েছে। ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে ত্রিপুরার স্থলপথের একমাত্র সংযুক্তি আসাম রাজ্যের মধ্য দিয়ে। এছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ক্ষুদ্র অথচ প্রাচীন রাজ্য ত্রিপুরা পাহাড়, পর্বত ও  অরণ্য বেষ্টিত। সংখ্যাগরিষ্ঠ ত্রিপুরা জাতিসত্তাসহ অপরাপর ১৯টি জাতির বাস ছিল রাজ্যটিতে। কৃষি ক্ষেত্রে তখন একমাত্র জুমচাষই ছিল। এতে ফসল উৎপাদন কম হতো তাই ত্রিপুরার রাজারা পূর্ববাংলা থেকে বাঙালি মুসলমান কৃষকদের ত্রিপুরায় নিয়ে যান হাল-চাষে অধিক ফসল উৎপন্নের অভিপ্রায়ে। ওই সময়ে বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায় ছিল রাজ্যটির জনসংখ্যার দ্বিতীয় অবস্থানে। প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছর মাণিক্য রাজাদের শাসনাধীন ত্রিপুরার রাজভাষা বা সরকারি ভাষা ছিল বাংলা। রাজাদের এবং আদিবাসীদের ভাষা কিন্তু বাংলা ছিল না। সেটা ছিল ত্রিপুরি, বোড়ো ইত্যাদি। ওই সব ভাষায় বর্ণমালা না থাকায় রাজারা রাজকার্যে সানন্দে বাংলা ভাষা গ্রহণ করেছিলেন এবং বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য নির্দেশ পর্যন্ত জারি করেছিলেন। মোগল ও ব্রিটিশ শাসকরা ত্রিপুরা রাজ্যের রাজাদের ওপর নানাভাবে আক্রমণ, আগ্রাসন অব্যাহত রাখে। প্রবল প্রতিরোধ করেও ব্যর্থ হয়ে রাজারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় মোগলদের করসহ হাতি, হাতির দন্তসহ নানা রকম উপঢৌকন দিতে বাধ্য হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসকরা ত্রিপুরার সমতলের বিশাল অঞ্চল চাকলা রোশনাবাদ দখল করে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে সেখানকার রাজাদের ওই অঞ্চলের জমিদারে পরিণত করেছিল। ফলে একটা সময়ে কেবল পার্বত্য ত্রিপুরাতেই রাজাদের রাজত্ব সীমাবদ্ধ ছিল। ব্রিটিশরা একজন পলিটিক্যাল এজেন্ট নিয়োগ করেছিল করদ-রাজ্যটিতে; যাতে ব্রিটিশ আনুগত্যে রাজারা বাধ্য থাকেন।

রাজ্যটি ব্রিটিশের প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে ছিল না বিধায় রাজ্যবাসীরা নিজেদের স্বাধীন ভূখন্ডের অধিবাসী বিবেচনা করত। সে-কারণে ভারতজুড়ে ব্রিটিশবিরোধী অহিংস-সহিংস আন্দোলন-সংগ্রাম তাদের ওপর তেমন প্রভাব বিস্তার করেনি। এমনকি ব্রিটিশবিরোধী মনোভাবও গড়ে ওঠেনি। আত্মগৌরবের পাশাপাশি ভাবাদর্শেও তারা রাজতন্ত্রের প্রতি মোহাবিষ্ট ছিল। রাজাদের নবরূপী নারায়ণ হিসেবে ভক্তি-শ্রদ্ধা করত। তবে রাজারা প্রকৃতই ছিলেন মোগল এবং ব্রিটিশদের অনুগত। তাদের আদেশ নির্দেশে উঠবস করতে তারা বাধ্য ছিলেন। কিন্তু তারা জনগণের ওপর কর্তৃত্ব-শোষণ ফলাতে কসুর করতেন না। ১৯৪৭ সালের মধ্য আগস্টে ব্রিটিশের প্রত্যক্ষ শাসনের অবসানের সঙ্গে পতন ঘটে ত্রিপুরার রাজতান্ত্রিক শাসনেরও। ত্রিপুরা ভারত না পাকিস্তান কোন রাষ্ট্রে যোগ দেবে এ নিয়ে খোদ রাজপরিবারে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের অনাগ্রহ এবং ভারতের আগ্রহের পাশাপাশি ত্রিপুরাবাসীর ইচ্ছা-অনিচ্ছার মধ্য দিয়ে নাবালক রাজার পক্ষে রাজার মাতা কাঞ্চন প্রভা দেবী ১৫ অক্টোবর ১৯৪৯ সালে দিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করে ভারত রাষ্ট্রে যোগ দেন। আমাদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-সংগ্রামে এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরা রাজ্যের সম্পৃক্তি রয়েছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরাবাসীর অবদান অনস্বীকার্য। ত্রিপুরার ১৪ লাখ অধিবাসী আমাদের ১৬ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয়, আহার থেকে নানাবিধ সহায়তা করেছিল। মেলাঘরে স্থাপিত হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ শিবির। মেলাঘরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

ত্রিপুরা রাজ্যের বর্তমান জনসংখ্যায় বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ। আর ত্রিপুরিসহ ১৯টি জাতিসত্তা মিলিয়ে ৩০ শতাংশ। হিন্দু ৮৬.৬ শতাংশ, মুসলিম ৮ শতাংশ, খ্রিস্টান ৩.২ শতাংশ এবং বৌদ্ধ ৩.১ শতাংশ। ত্রিপুরার সুদীর্ঘ ইতিহাসে সাম্প্রদায়িক এবং জাতিগত দাঙ্গা, সংঘাতের দৃষ্টান্ত না থাকলেও গত ২০১৮ সালের বিধানসভার নির্বাচনে শূন্য অবস্থান থেকে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি রাজ্যবাসীদের চরম প্রতারণামূলক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতা লাভ করে। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রকাশ্য জনসভায় ত্রিপুরার জনগণকে অজস্র সুযোগ-সুবিধা প্রদানের অঙ্গীকার করলেও আজ অবধি একটি প্রতিশ্রুতিরও বাস্তবায়ন করেননি। বিপরীতে ফ্যাসিবাদী কায়দায় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সরকার রাজ্যবাসীদের জীবিকা হরণ করে নাভিশ্বাস তুলেছে। বৃদ্ধদের ভাতা প্রদান বন্ধ করেছে। চাকরির ক্ষেত্র সংকুচিত ও ছাঁটাই প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে রাজ্যে বেকারের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি করে রাজ্যবাসীকে চরম সীমায় পৌঁছে দিয়েছে। উন্নয়ন বা উন্নতির কোনো ছিটেফোঁটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেনি। নির্বাচনে জয়লাভের পরমুহূর্তে আগরতলায় স্থাপিত লেনিনের ভাস্কর্য ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে শাসকরা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বামফ্রন্টের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ওপর শ্বেত-সন্ত্রাস চালিয়ে এসেছে। মাত্র ৮ শতাংশ পশ্চাৎপদ হতদরিদ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর পর্যন্ত নির্যাতন-নিপীড়ন, হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের অপরাধ তারা বামফ্রন্ট বা সিপিএমের সমর্থক ও ভোটার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটনের অনেকগুলো ঘটনা এ যাবৎ ঘটিয়েছে বিজেপির দুর্বৃত্তরা। পরপর দুবার জনরায়ে কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ২০১৮ সালে ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচনে জয়ী হয়। এতে রাষ্ট্রের ও কেন্দ্রীয় সরকারের নিরঙ্কুশ মদদে বিজেপি ত্রিপুরা রাজ্যজুড়ে শ্বেত সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। মনে করা যেতে পারে এই উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের চরম বিরোধিতা করেছিল। সাভারকার, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় থেকে সবাই ব্রিটিশ শাসনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘ওর বাপ এক পাকিস্তান সৃষ্টি করেছে আর মেয়ে দুই পাকিস্তান সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’ কিন্তু ভারতীয় জনগণ এবং প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দল ও জোটসমূহ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেছিল। মোদি সরকার দ্বিতীয় দফায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর সাম্প্রদায়িকতার মারণাস্ত্র ব্যবহার করে ভারতকে ‘হিন্দুরাষ্ট্রে’ পরিণত করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এবং ভারতের বহুত্ববাদকে নির্মূলের অভিপ্রায়ে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি সংশোধনী বিল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাস করিয়ে মানুষকে বিভক্তকরণের ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে ভারতের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে ত্রিপুরায় কংগ্রেসের ব্যাংক ভোটের পরিমাণ ২৬ শতাংশ। কিন্তু ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। তাহলে অবশিষ্ট ২৩ শতাংশ ভোট গেল কোথায়? বামফ্রন্টের ভোট কমেনি। বরং আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। কংগ্রেসের ২৩ শতাংশ ভোট কাদের বাক্সে পড়েছে সেটাও অপরিষ্কার থাকেনি। কেননা কংগ্রেসের প্রচুর নেতাকর্মী বিজেপিতে যেমন যোগ দিয়েছে তেমনি কংগ্রেসের অনেক নেতা বিজেপির সাংসদ, মন্ত্রী এবং কর্মীরা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে শ্বেত-সন্ত্রাস চালাচ্ছে। ত্রিপুরার রাজ্য ক্ষমতায় কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টই আগাগোড়া ক্ষমতায় ছিল। ‘উপজাতি যুব সমিতি’ নামক উপজাতিদের সংগঠন অতীতে দক্ষিণপন্থি কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করলেও ২০১৮ সালে তারা চরম দক্ষিণপন্থি-সাম্প্রদায়িক বিজেপির সঙ্গে নির্বাচনী জোটে অংশ নিয়েছে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যকার বিভেদ ও বৈষম্য ধর্মীয়ভাবেই স্বীকৃত।

ড. আম্বেদকর বলেছেন, ‘জাতপ্রথার প্রকৃত ভায়োলেন্স হচ্ছে এনটাইটেলমেন্ট অর্থাৎ অস্বীকার করা : জমির, ভূমির, পেশার, পানির, শ্রমের অধিকার। জাতপ্রথা কেবল শ্রমের বিভাজন নয়, এটি শ্রমিকেরও বিভাজন।’ জাতপ্রথায় বিভক্ত হিন্দু সম্প্রদায়ে ঐক্যের কোনো অবকাশ আগেও ছিল না। আজও নেই। ব্রাহ্মণ্যবাদীদের আধিপত্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ নিম্নবর্গের হিন্দুদের মানুষ বলেই গণ্য করা হয় না। অচ্ছুৎ, অস্পৃশ্য, শূদ্র অভিধায় নিম্নবর্গের ওপর উচ্চবর্ণের নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে, অতীতের আদলে। হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তাই অবাস্তব যেমন, তেমনি হাস্যকরও বটে। হিন্দুত্ববাদী আরএসএস-এর গুরু এস.এম. গোলওয়াকার বলেছেন, ‘দলিত রমণীদের সম্ভোগ করা সঙ্ঘীদের জন্মগত অধিকার।’ আরও বলেছেন, ‘শূদ্র মহিলাদের প্রথম সন্তান ব্রাহ্মণ ঔরসজাত হওয়া বাঞ্ছনীয়, তার বিবাহ যার সঙ্গেই হোক না কেন। এতে ব্রাহ্মণ জাতের গুণ নিচু জাতের মধ্যে সম্প্রসারিত হয়’ (অর্গানাইজার পত্রিকা, ১৯৬১)। আরএসএস-এর প্রধান শ্রী শ্রী শ্রী মোহন ভগবত নারীদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘বিবাহ হলো চুক্তি। ছেলেরা বিয়ে করে সুখ পাওয়ার জন্য, আর মেয়েরা বিয়ে করে ছেলেদের সুখ দেওয়ার বিনিময়ে নিজেদের পেট চালানোর জন্য।’ আর আরএসএস, সঙ্ঘ পরিবার, হিন্দু মহাসভা, কর-সেবক ইত্যাদি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনসমূহের মিলিত রাজনৈতিক দলই হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তারাই এখন ভারতের ক্ষমতার দন্ডমুন্ডের কর্তা।

ত্রিপুরার বিধানসভার নির্বাচন আগামী ২০২৩ সালে। রাজ্য ক্ষমতায় থাকা বিজেপি সরকারের ব্যর্থতার খতিয়ান পর্বতসম। জনদুর্ভোগ, জনরোষে নিশ্চিত পরাজয় উপলব্ধি করে তারা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে নির্মূলে নেমেছে। গত তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান বিরোধী দল নেতা মানিক সরকারের ওপর দুই দফায় সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। তিনি প্রাণে বেঁচে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমার জীবনের বিনিময়ে যদি ত্রিপুরায় শান্তি ফিরে আসে, তাতেও আমি রাজি।’ গত ৮ সেপ্টেম্বর আগরতলার মেলার মাঠস্থ সিপিএমের রাজ্য ও জেলা কার্যালয়ে বিজেপি শান্তির নামে সন্ত্রাসবিরোধী ব্যানার সহকারে মিছিল নিয়ে লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্রসহ হানা দিয়ে কার্যালয় দুটির ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং অফিসে থাকা গাড়ি, মোটরবাইকগুলো জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ওইদিন ত্রিপুরা রাজ্যের সিপিএমের ৫০টি কার্যালয় পুড়িয়ে দেয়। গোটা রাজ্য বিজেপির তা-বে জ্বলেছে। বামফ্রন্ট ও সিপিএমের নেতাকর্মী, সমর্থকদের নৃশংসভাবে আহত করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রচুর সিপিএম কর্মী, সমর্থকদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে প্রহর গুনতে হচ্ছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে পুলিশের উপস্থিতিতে সবগুলো ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ নীরব দর্শকের মতো তামাশা দেখেছে। পুলিশ বিজেপির সন্ত্রাসীদের বাধা প্রদান কিংবা গ্রেপ্তার করা তো পরের কথা, পুলিশের সঙ্গে থাকা অস্ত্র বা লাঠি কোনোটির ব্যবহার পর্যন্ত করেনি। ৮ সেপ্টেম্বর বিজেপির তা-ব, নৃশংস, বর্বর সন্ত্রাসের কালো দিন হিসেবে ত্রিপুরার ইতিহাসে ঠাঁই পেয়েছে। মোদির শাসনামলে ভারতের তথাকথিত গণতন্ত্র ফ্যাসিবাদে পরিণত এখন। নিশ্চয় জনরায়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। তেমনই জনরায়ে জার্মানিতে হিটলার এবং ইতালিতে মুসোলিনিও ক্ষমতায় এসেছিল। তাদের পরিণতি কিন্তু সুখকর হয়নি। ইতিহাসের এই শিক্ষাটি বিজেপি নিয়েছে, তেমন আলামত তাদের এই শাসনামলে দেখা যায়নি এবং যাচ্ছেও না।

লেখক নির্বাহী সম্পাদক নতুন দিগন্ত