মাহাদীকে আর কখনো পাওয়া যাবে নাক্যাম্পাসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয়মুখ এই সাবেক শিক্ষার্থীকে তাই কাফনে জড়িয়ে শেষবার নেওয়া হলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। নিজের ক্যাম্পাসেই হয়েছে তার প্রথম জানাজা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দুপুর ১২টার দিকে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে। মাহাদীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।
মাসুদ আল মাহাদী (অপু) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ ও মাস্টারদা সূর্যসেন হলের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। একাডেমিক ফলাফলে তিনি ভালো করতেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ন্যায়সংগত আন্দোলনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সোমবার বেলা দুইটার পর রাজধানীর চানখাঁরপুলের একটি মেস থেকে মাহাদীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া ছিল মরদেহটি।
সোমবার তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়। সেখান থেকে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহটি নিয়ে আসা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে। দুপুর ১২টার দিকে মাহাদীর জানাজায় তার পরিবারের সদস্য, বিভাগের শিক্ষক, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মাহাদীর বন্ধুরা জানান, মাহাদী সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সর্বশেষ ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত ও ভাইভার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের মৌখিক পরীক্ষায় মঙ্গলবার তার অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
তারা আরও জানান, আর্থিক সংকটের কারণে মাহাদী বন্ধুদের কাছে টাকা ধারও করেছিলেন। তার মা অসুস্থ, ঢাকা কলেজে অধ্যয়নরত ছোট ভাইয়ের পড়ার খরচও তিনিই চালাতেন। আর্থিক সংকট, করোনা পরিস্থিতির কারণে চাকরি পেতে বিলম্ব হওয়া, পরিবারের প্রত্যাশার চাপ- এসব মিলিয়ে হতাশার মধ্যে ছিলেন তিনি।