১০০ ‘বয়ফ্রেন্ড’ নিয়ে সমকামী চক্র ও কোটি টাকা প্রতারণা, পীর গ্রেপ্তার

আব্দুল মুত্তালিব চিশতি। পরনে থাকে ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি, পায়জামা। তার ওপরে মুজিব কোট। মাথায় লম্বা টুপি, মুখে ফ্রেঞ্চকাট দাঁড়ি। প্রতি সপ্তাহে তার বাড়িতে নারী-পুরুষ কাফনের সাদা কাপড় পড়ে মিলিত হতেন জিকিরে, আর সেখানে লম্বা বয়ান শেষে মোনাজাত করাতেন তিনি।

তবে এই কথিত পীরকে সমকামিতা ও কোটি কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার দায়ে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের একটি টিম।

মঙ্গলবার ডিসি (ডিবি) গুলশান মশিউর রহমান জানান, কাফনের কাপড় পরে ভক্ত-মুরিদানরা যখন চোখ বুজে জিকির করতেন, সে সময় আব্দুল মুত্তালিব কখনো কখনো চোখ খুলে সন্ধান করতেন সমকাম চরিতার্থ করার শিকার।

তিনি জানান, দুই বউ আর অসংখ্য মুরিদান থাকলেও এই ভণ্ড পীর পরিচালন করতেন ঢাকা গে কমিউনিটির দুইটি ওয়েব পেইজ। এর মাধ্যমে প্রায় ১০০ ‘বয়ফ্রেন্ড’ নিয়ে সমকামিতায় লিপ্ত ছিলেন তিনি।

ডিবি জানায়, আব্দুল মুত্তালিব চিশতির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দুইটি মামলা হলেও শতাধিক বঞ্চিত ভিকটিম লোকলজ্জায় অভিযোগ করছেন না। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর তোরাগ থানা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  

তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশ রিমান্ডের জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

মশিউর রহমান জানান, আব্দুল মোত্তালিব চিশতি ধর্মের পাশাপাশি ধান্দাবাজি আর প্রতারণায় রাজনীতিকেও ব্যবহার করতেন। একটি চক্রকে নিয়ে উনি বানিয়েছেন আওয়ামী নির্মাণ শ্রমিক লীগ; নিজে হয়েছেন সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি পোস্ট। এই পদ ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা-নেত্রীর সাথে ছবি ও সেলফি তুলতেন তিনি। তাদেরকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রবেশ করেছেন সচিবালয়ে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে- বিশেষ করে শিক্ষা, ভূমি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কখনো মন্ত্রী, কখনো সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে ছবি তুলতেন এই কথিত পীর। একদিকে পীরবাদের বয়ান করতে, আরেকদিকে রাজনৈতিক প্রচার প্রচারণার জন্য সফর করেছেন দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়। সেখানে তার লম্বা বয়ান এবং মোনাজাতে মুগ্ধ অনেকেই পীরের মোবাইল নম্বর নিতেন। পরে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান চেয়ে ও তদবির করতে তাকে ফোন করলেই শুরু হতো প্রতারণার নানা কৌশল।

তিনি বলেন, আব্দুল মুত্তালিব চিশতির বিরুদ্ধে পীরবাদ, রাজনৈতিক পদবি ব্যবহার করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মাস্টাররোলে চাকরি দেয়া, রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট স্বল্পমূল্যে বরাদ্দ দেয়া, দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও ও পৌরসভার চেয়ারম্যান মেম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর অথবা মেয়র প্রার্থীদের নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পাইয়ে দেয়ার নাম করে এক একজনের কাছ থেকে ৬ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।