নাটোর সদর হাসপাতালের প্রায় চার কোটি টাকার টেন্ডার সিডিউল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবলীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাসিরুর রহমান খান চৌধুরী এহিয়ার বিরুদ্ধে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আযম স্বপনের কাছ থেকে সিডিউল ছিনিয়ে নেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় স্বপনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। এ নিয়ে হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে জেলা ডিবি পুলিশ ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আযম স্বপন অভিযোগ করে বলেন, দুপুরে নাটোর সদর হাসপাতালে ৬টি গ্রুপের দুটি কাজের টেন্ডার সিডিউল ক্রয় করি। পরে সিডিউল ক্রয়ের খবর পেয়েই জেলা যুবলীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাসিরুর রহমান খান চৌধুরী এহিয়া দলবল নিয়ে আমাকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে শিডিউল ক্রয় করে বের হওয়ার সময় যুবলীগ নেতা সিডিউলগুলো ছিনিয়ে নেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অনেক চেষ্টা করেও জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাসিরুর রহমান খান চৌধুরী এহিয়ার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নাটোর সদর থানার ওসি তদন্ত আবু সাদাদ জানান, কেউ টেন্ডার সংক্রান্ত অভিযোগ থানায় করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোর সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, সম্প্রতি নাটোর সদর হাসপাতালের ওষুধ, খাবার, আসবাবপত্র সহ মোট ৬টি গ্রুপের প্রায় চার কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত মোট ১৮টি সিডিউল বিক্রি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সিডিউল ক্রয় এবং ৩ অক্টোবর জমা দেওয়ার শেষ দিন রয়েছে।
সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. পরিতোষ কুমার রায় বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তা ছাড়া টেন্ডারের সিডিউল ক্রয় করে বাইরে কোনো ঘটনা ঘটলে এটা আমাদের এখতিয়ার না।
এদিকে, নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আযম স্বপন এর কাছ থেকে টেন্ডারের শিডিউল ছিনিয়ে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বগুড়ার আলিয়া করপোরেশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিডিউল ক্রয় করে বের হওয়ার সময় সেটিও ছিনিয়ে নেন এই যুবলীগ নেতা।