১২ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল সংকট

নবাবগঞ্জে চিকিৎসাবঞ্চিত সন্তানসম্ভবা ও শিশুরা

নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের অবস্থা এখন বেহাল। এসব ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের অধিকাংশেই এখন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন পদের কর্মী সংকট। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে সেবাগ্রহীতাদের বেশিরভাগ শিশু ও সন্তানসম্ভবা নারীরা। ১২টি কেন্দ্র অচল থাকায় এতে সেবাবঞ্চিত হচ্ছে তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শূন্যপদগুলোর মধ্যে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ১১ পদের মধ্যে ৫টি শূন্য, এর মধ্যে একজন ডেপুটেশনে। ফার্মাসিস্ট ১১ পদের মধ্যে ৯টি শূন্য, এর মধ্যে একজন কেন্দ্রীয় পণ্যাগার কর্মরত। পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা ১৪ পদের মধ্যে ১০টি শূন্য, একজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রয়েছে। অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক একটি পদের মধ্যে একটিই শূন্য। সদর ক্লিনিক পুরোটাই বাতিল করা হয়েছে।

এসব পদ শূন্য থাকায় গত ছয় বছরে কোনো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটিতেও স্বাভাবিক কিংবা সিজার অপারেশন হয়নি। ফলে দরিদ্র সন্তানসম্ভবা নারীদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে। যথাযথ চিকিৎসাসেবা পায়নি শিশুরাও। শূন্য পদগুলো পূরণ না করার ফলে গ্রামের দরিদ্র ও বিভিন্ন পেশার মানুষ বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও সন্তানসম্ভবা নারীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকাবাসী ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক ডাক্তার-নার্স, ফার্মাসিস্ট ও পর্যাপ্ত ওষুধ দিয়ে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

শোল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান তুহিনুর রহমান বলেন,  দ্রুত জনবল দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের সুচিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেক সমস্যার মাঝেও চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।