জাদু-টোনা ক্ষতিকর কাজ

সাহাবি হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তিন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না অভ্যস্ত মদ্যপায়ী, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী ও জাদুতে বিশ্বাসী।’ মুসনাদে আহমাদ : ১৯৫৮৭

নবী কারিম (সা.) বিভিন্ন সময় উম্মতকে বিভিন্ন কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। বস্তুত মহান আল্লাহ তার নবী কারিম (সা.)-এর মাধ্যমে মানবজাতিকে জান্নাতের পথের দিশা দিয়েছেন এবং যেসব কাজ মানুষকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়, সে বিষয়েও সচেতন করেছেন। বর্ণিত হাদিস এমনই একটি হাদিস। হাদিসে বর্ণিত এসব কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। শুধু হাদিস নয়, কোরআনে কারিমে জাদুর ক্ষতিকর প্রভাবের কথা বর্ণিত হয়েছে। মানুষকে জাদু থেকে দূরে থাকতে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর তারা অনুসরণ করেছে, যা শয়তানরা সোলায়মানের রাজত্বে পাঠ করত। আর সোলায়মান কুফরি করেনি, বরং শয়তানরা কুফরি করেছে। তারা মানুষকে জাদু শেখাত এবং (তারা অনুসরণ করেছে) যা নাজিল করা হয়েছিল বাবেলের দুই ফেরেশতা হারুত ও মারুতের ওপর। আর তারা কাউকে শেখাত না যে পর্যন্ত না বলত যে ‘আমরা তো পরীক্ষা, সুতরাং তোমরা কুফরি করো না। এরপরও তারা এদের কাছ থেকে শিখত, যার মাধ্যমে তারা পুরুষ ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত। অথচ তারা তার মাধ্যমে কারও কোনো ক্ষতি করতে পারত না আল্লাহর অনুমতি ছাড়া। আর তারা শিখত, যা তাদের ক্ষতি করত, তাদের উপকার করত না এবং তারা অবশ্যই জানত, যে ব্যক্তি তা ক্রয় করবে, আখেরাতে তার কোনো অংশ থাকবে না। আর তা নিশ্চিতরূপে কতই না মন্দ, যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিক্রয় করেছে। যদি তারা জানত।’ সুরা বাকারা : ১০২

এই আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায় যে জাদু-টোনার নিজস্ব কোনো শক্তি নেই। বরং মহান আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত জাগতিক নিয়ম ও নির্দেশেই তা প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ, যা কখনো মঙ্গল বয়ে আনে না। বরং এগুলো মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের ধ্বংস ডেকে আনে।

গ্রন্থনা : মায়মুনা আব্বাস