চীনের সেনাপ্রধানকে ফোন করার পক্ষে যুক্তি দিলেন মার্কিন শীর্ষ জেনারেল

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মার্ক মিলি কংগ্রেসে স্বীকার করলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শেষের দিকে তিনি চীনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার কাছে প্রকাশ্যে দু’বার ফোন করেছিলেন। প্রতিপক্ষে উদ্বেগের জবাব দেওয়ার লক্ষ্যে কাজটি করেছিলেন। খবর ভয়েস অব আমেরিকা।

আরও বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা ওই ফোনকল সম্পর্কে জানতেন। যেখানে তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের মেয়াদের শেষের সপ্তাহগুলোতে চীনের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই।

কিছু রিপাবলিকান আইন প্রণেতা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলিকে বরখাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহ্যগতভাবে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক বাহিনীতে যে বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

অবশ্য মিলি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তিনি।

আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় জানান, ৩০ অক্টোবর ও ৮ জানুয়ারি কল দুটি করা হয়। মিলি আরও বলেন, গোয়েন্দাদের বরাতে পাওয়া সংবাদে সাড়া দিয়েছেন তিনি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে চিন্তিত ছিল চীন।

পিপলস লিবারেশন আর্মির জেনারেল লি জুওচেংকে করা ফোন কলের কথা উল্লেখ করে সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে মিলি বলেন, ‘আমি জানি, আমি নিশ্চিত যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীনাদের ওপরে আক্রমণের অভিপ্রায় ছিল না এবং প্রেসিডেন্টের আদেশ ও উদ্দেশ্য জানানোর জন্য আমার ওপর নির্দেশ ছিল । সেটাই দায়িত্ব ছিল আমার।’

তিনি বলেন, ‘ওই সময় আমার কাজ ছিল উত্তেজনা প্রশমন করা। তা ছাড়া আমার বার্তা সংগতিপূর্ণ ছিল— শান্ত থাকুন, স্থির থাকুন ও উত্তেজনা প্রশমন করুন। আমরা আপনাদের আক্রমণ করব না।’

এই ফোনালাপের কথা প্রথম প্রকাশিত হয় ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড এবং রবার্ট কোস্টারের সাম্প্রতিক বই ‘প্যারিল’-এ। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন শেষ সপ্তাহগুলোর বিবরণ বইটিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে। ফোনালাপের খবর প্রকাশের পরপরই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, চীনের সঙ্গে যুদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না।