উত্তর কোরিয়া এই সপ্তাহে হাইপারসনিক গ্লাইডিং মিসাইল পরীক্ষা করেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশটির সর্বশেষ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, যা কোরীয় উপদ্বীপে কৌশলগত ভারসাম্যে পরিবর্তনের একটি কারণ হতে পারে।
শব্দের গতির চেয়ে কমপক্ষে পাঁচগুণ বেশি তথা প্রতি ঘন্টায় ৬,১০০ কিলোমিটারের (৩,৮০০ মাইল) বেশি বেগে উড়ে যেতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্রকেই সাধারণত হাইপারসনিক বলা হয়।
উচ্চ গতির পাশাপাশি তারা মাঝ আকাশে কৌশলেও কাজ করতে পারে, যার ফলে তাদেরকে সনাতন প্রজেক্টাইলগুলির তুলনায় ট্র্যাক করা এবং আটকানো অনেক কঠিন।
অল্প সময়ে অনেক দূরত্ব উড়ে যাওয়ার সক্ষমতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগও কম।
নকশার ওপর ভিত্তি করে তারা পারমাণবিক ওয়ারহেড বা শুধুমাত্র প্রচলিত বোমা বহনে সক্ষম হতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্র কৌশলগত ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
রাশিয়াকেই এখন পর্যন্ত এই প্রযুক্তিতে বিশ্বনেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে যারা নতুন হাইপারসনিক অস্ত্রের একটি পরিসীমা তৈরি করেছে, যাকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘অদম্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
জুলাই মাসে রাশিয়া সফলভাবে জিরকন নামের একটি মিসাইলের পরীক্ষা চালায়, যা একটি জাহাজ-চালিত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং শব্দের চেয়ে সাতগুণ বেশি গতিতে উড়ে যেতে পারে।
রাশিয়ার অস্ত্রাগারে ইতিমধ্যেই অ্যাভানগার্ড হাইপারসনিক গ্লাইড যান এবং বায়ু-উৎক্ষেপিত কিনজাল (ড্যাগার) ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
রাশিয়ান কর্মকর্তারা বলেছেন, পরীক্ষার সময় অ্যাভানগার্ড প্রতি ঘণ্টায় ৩৩ হাজার কিলোমিটার গতিতে পৌঁছেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বেশ কয়েকটি গবেষণা কর্মসূচিতে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে এবং বলেছে যে এই সপ্তাহে এটি রেথিওন নির্মিত একটি বায়ু-উৎক্ষেপিত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে, যা শব্দের চেয়ে পাঁচগুন বেশি গতিতে পৌঁছেছে।
ইউএস কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের মতে, চীনও হাইপারসনিক গ্লাইড যানবাহন পরীক্ষা করেছে। রাশিয়া এবং চীন উভযয়ের হাইপারসনিক সিস্টেমই পারমাণবিক অস্ত্র বহন করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হোয়াসং-৮ এর বিবরণ জানা যায়নি। এটি ঠিক কত গতিতে পৌঁছেছে তাও জানা যায়নি।