বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে খেলাফত মজলিস। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে ২০ দল ছাড়ার ঘোষণা দেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন।
এর মধ্য দিয়ে আরো কোনো নিবন্ধিত ইসলামী দল ২০ দলের সঙ্গে থাকল না। খেলাফত মজলিস ছিল ২০ দলীয় জোটে থাকা সর্বশেষ নিবন্ধিত ইসলামি দল। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট (আবদুর রকিব) ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (মনসুরুল হাসান) আরেকটি অংশ ২০ দলীয় জোটে থাকলেও তাদের নিবন্ধন নেই।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, খেলাফত মজলিস একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতির প্রয়োজনে সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংগ্রামে খেলাফত মজলিস বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন হিসেবে দীর্ঘ তিন দশকের অধিক সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে দেশ, জাতি, ইসলাম এবং জনগণের পক্ষে ভূমিকা পালন করে আসছে। খেলাফত মজলিস মনে করে এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক মতাদর্শ লালন-পালন করার অধিকার আছে। যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত।
তিনি বলেন, বিগত ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি খেলাফত মজলিসে শুরার অধিবেশনে বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সে অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্তের পূর্ব পর্যন্ত খেলাফত মজলিস জোটের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনের আগে দুপুর ২টায় কেন্দ্রীয় নেতা এবং জেলা পর্যায়ের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে দুই ঘণ্টা বৈঠক করে খেলাফত মজলিস। বৈঠকে প্রায় দুই শতাধিক সদস্য অংশ নেন। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
দলটির বিভিন্ন সূত্র এর আগে জানায়, ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরিক দল বিএনপির কার্যকলাপে তারা হতাশ। দীর্ঘদিন ধরে জোট নিষ্ক্রিয়। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পূর্বাপর রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণে ২০ দলের শরিকরা গুরুত্ব হারায়। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা ইসলামি দলগুলোর ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নন বলেও তারা মনে করছেন।
১৯৯৯ সালে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ চারদলীয় জোটে ছিল ইসলামী ঐক্যজোট। ইসলামী ঐক্যজোটের পাঁচ শরিক দলের অন্যতম ছিল শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। একপর্যায়ে শায়খুল হাদিস চারদলীয় জোট ছেড়ে গেলেও একাংশ থেকে যায়। পরে আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে খেলাফত মজলিস নামে নতুন দল গঠন করে নিবন্ধন নেয়।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মামলায় গত ২৪ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন।
এর আগে গত ১৪ জুলাই বিএনপি জোট ছাড়ে কওমি আলেমদের পুরোনো দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটির নেতারা ওই দিন সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসার কয়েক ঘণ্টা পর জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিএনপি জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন। গত মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মামলায় জমিয়তের ৬০ নেতাকর্মী আসামি হন।
১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোটকে সঙ্গে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠন করেছিল বিএনপি। পরে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি বেরিয়ে গেলে যুক্ত হয় নাজিউর রহমান মঞ্জুর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)।
২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল নতুন ১২টি দলের সংযুক্তির মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা চারদলীয় জোট কলেবরে বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ দলীয় জোটে। এরপর জোটের পরিধি দাঁড়ায় ২০ দলে।
ইতিমধ্যে ২০ দলীয় জোট থেকে ইসলামী ঐক্যজোট, এনপিপি, ন্যাপ ও এনডিপি বেরিয়ে গেলেও একই নামে এসব দলের একাংশকে জোটে রেখে দেয় বিএনপি। জোট ছেড়ে যায় আন্দালিভ রহমান পার্থের বিজেপিও।
সর্বশেষ, গত ১৮ জুলাই জমিয়ত বেরিয়ে গেলেও একই নামে আরেকটি অংশ রয়েছে জোটে।