যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি জামাল খাশোগি হত্যার জন্য সিনিয়র সৌদি নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করবেন।
তবে, ২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পরেই এই বিচারকার্য ও সৌদির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বাইডেনের যে প্রতিশ্রুতি ছিল সেটি ভেস্তে যাচ্ছে। জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই পররাষ্ট্রনীতি ‘গালে চড়’ মারার শামিল।
তারা বাইডেন প্রশাসনের কাছে খাশোগি হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেন।
চলতি সপ্তাহে খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের পদক্ষেপের বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেন জাতিসংঘের সাবেক বিশেষ প্রতিবেদক অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল ক্যালামার্ড বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তার বাস্তবায়নও হওয়া চাই। এগুলো শুধু কথা বা ‘ভান’ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।’
বৃহস্পতিবার খাশোগি হত্যার ৩ বছর উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ক্যালামার্ড বলেন, যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের এখনো বিচারের আওতায় আনা হয়নি, অধিকার কর্মী এবং জাতিসংঘের তদন্ত তাদের উন্মোচন করেছে।’
২০১৯ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়। তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
খাশোগি হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয় সৌদিকে। তারা শুরুতে অভিযোগ অস্বীকার করে। তবে সংবাদমাধ্যমে তুর্কি গোয়েন্দাদের একের পর এক তথ্য ফাঁসের মুখে সে বছরের ১৯ অক্টোবর খাশোগি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে বলে স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তীতে তুরস্কের তদন্তে বেরিয়ে আসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশেই খাশোগিকে হত্যা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রতিবেদনেও একই বিষয় উঠে আসে।
সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ৮ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে সৌদি আরবের একটি আদালত।