চুয়াডাঙ্গা সীমান্তপথে পাচার হচ্ছে সোনা, আসছে মাদক

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্র্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা সোনা ও মাদক চোরাকারবারিদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন সীমান্ত রুট দিয়ে ভারতে কোটি কোটি টাকার সোনার বার পাচার হচ্ছে। অন্যদিকে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসছে সোনা-রুপার তৈরি অলংকার ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। জানা গেছে, এসব কারবারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা নিমতলা, ঠাকুরপুর, কার্পাসডাঙ্গা ও জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর, সদরপাড়া নতুনপাড়া, হরিহরনগর, বেনীপুর এবং পাশর্^বর্তী ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুসুমপুর, শ্রীনাথপুর, বাগাডাঙ্গা, মাটিলা সীমান্ত দিয়েই প্রতিনিয়ত মাদকদ্রব্য ও সোনা পাচার হয়ে আসছে। সীমান্তবর্তী অনেক গ্রামে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের নিজ বাড়িতে কৌশলে মাদকদ্রব্য বিক্রি করছেন।

নাম প্রকাশ না করে সীমান্তবর্তী গ্রামের এক মাদক কারবারি জানান, বর্তমানে বিজিবি-পুলিশের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় মাদক কারবারিরা কৌশল হিসেবে বস্তাবন্দি ফেনসিডিলে ইট বেঁধে পুকুরে কিংবা জলাশয়ে ডুবিয়ে রাখে, আবার কখনো চুলার ভেতরে কিংবা পরিত্যক্ত ও আবর্জনাযুক্ত স্থানে লুকিয়ে রাখে। পরে সুযোগমতো মাদকসেবী কিংবা কারবারিদের কাছে সরবরাহ করা হয়।

বিজিবি-পুলিশ প্রায়ই মাদকের ছোট-বড় চালান আটক করে। তবে যে হারে মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়, সে হারে চোরাকারবারি গ্রেপ্তার না হওয়ায় মাদক চোরাচালান বন্ধ হচ্ছে না বলে জানান স্থানীয়রা।

অভিযোগ উঠেছে, বিজিবি-পুলিশের কথিত সোর্সদের সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক দাপট রয়েছে। এসব কথিত সোর্সরাও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তারা বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে চোরাকারবারিদের সুযোগ করে দেয়। কথিত এসব  সোর্সদের কথা কেউ অমান্য করলে তাকে বিজিবি-পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনের হিসাবে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন থানা পুলিশ ও বিজিবির অভিযানে গত ২৭ আগস্ট এক কেজি গাঁজা, ২৮ আগস্ট দুই কেজি গাঁজা ও ৩৭০ বোতল ইস্কুফকোডিন নামক মাদক এবং ১৬৩ বোতল  ফেনসিডিল, ৩০ আগস্ট ২৬১ বোতল ভারতীয় মদ, ৮ সেপ্টেম্বর ৮৮ পিস ইয়াবা এবং সর্বশেষ গত ৯ সেপ্টেম্বর এক কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়। এ সময় ৩ জনকে আটক করা হয়।

এদিকে উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের সদস্য ইসরাফিল হোসেন পুকু গত ৯ মে ১ কেজি ৬৩ গ্রাম ওজনের তিনটি সোনার বারসহ বিজিবির হাতে আটক হন। ১৫ জুন মুন্সীপুর সীমান্ত থেকে ৪ ভরি সোনা ও ৭০ ভরি রুপাসহ এক ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার হয়। এছাড়া গত এক মাসে বিজিবি ও পুলিশের অভিযানে পৃথক স্থান থেকে প্রায় ছয় কেজি সোনা ও অলংকার এবং সাড়ে ২৮ কেজি ওজনের রুপার গহনা উদ্ধার হয়। এ সময় অন্তত ৫ জনকে আটক করা হয়।

জীবননগর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সোনা-রুপা ও মাদক  চোরাচালানের ব্যাপারে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা রয়েছে। জড়িতরা কোনোভাবে ছাড় পাবে না। দর্শনা থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান জানান, প্রায় প্রতিদিনই মাদকের ছোট-বড় চালান আটক হচ্ছে।

ঝিনাইদহ খালিশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. কামরুল আহসান বলেন, ‘সীমান্তে সবধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সক্রিয় আছে। সোনা পাচারে সমাজের অনেক রাঘব-বোয়াল জড়িত। যথেষ্ট প্রমাণের অভাবে আটক করা সম্ভব হয় না।’