ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বিচারের আওতায় আসেনি

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (৯ মাসে) ট্রেনে ১১০টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২৯ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাথর নিক্ষেপ করা হয় এমন ১৪ জেলার ১৯ জায়গা চিহ্নিত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে বিচারের আওতায় আনা বা সাজা দেওয়া হয়নি।

গতাকল রবিবার রেলভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘চিহ্নিত করা গেছে তবে বেশিরভাগই শিশু, টোকাই, ভবঘুরে, মানসিক রোগী এমন যার ফলে সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় বিভিন্ন ট্রেনের ১০৩টি জানালা ভেঙে গেছে। আহত হয়েছেন ২৯ জন। সাম্প্রতিক সময়ে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের হার বেড়েছে এবং ট্রেনের গার্ড, কর্মচারী ও যাত্রী আহত হয়েছেন। চোখ হারিয়েছেন এবং মারা গেছেন এমন ঘটনাও ঘটেছে।’

১৮৯০ সালের বাংলাদেশ রেলওয়ের আইনের ১২৭নং ধারায় ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের জন্য যাবজ্জীবন জেলসহ ১০ হাজার টাকার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাথর নিক্ষেপে যদি কারও মৃত্যু হয় তাহলে ওই আইন অনুযায়ী ৩০২নং ধারামতে দোষীদের মৃত্যুদ-ের বিধান রাখা হয়েছে।

নূরুল ইসলাম সুজন জানান, যে জায়গাগুলো থেকে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করা হয় ইতিমধ্যে সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলোÑ চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড, ফেনীর ফাজিলপুর-কালীদহ এবং নরসিংদীর সদর, জিনারদী ও ঘোড়াশাল এলাকা। পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি জেলার ১৫টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলোÑ চুয়াডাঙ্গার চুয়াডাঙ্গা আউটার, নাটোরের আবদুলপুর রেলওয়ে স্টেশন, সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশন, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশন, পাবনার মুলাডুলি রেলওয়ে স্টেশন, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার কিসমত-রুহিয়া, পাবনার ভাঙ্গুরা রেলওয়ে স্টেশন, বগুড়ার ভেলুরপাড়া রেলওয়ে স্টেশন, গাইবান্ধার বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশন, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন, সলপ রেলওয়ে স্টেশন, জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন, পাবনার বড়ালব্রিজ রেলওয়ে স্টেশন এবং খুলনার ফুলতলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা।

তিনি আরও বলেন, ‘এ উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর পর থেকে কোনো না কোনো জায়গায় দুষ্কৃতকারীরা চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে আসছে। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে এটি একটি সমস্যায় পরিণত হয়েছে।’