ফেইসবুকে ভাইরাল ফাতেমাকে মেয়ে ডাকলেন পুনাক সভানেত্রী, দিলেন রিকশা

ফাতেমার বয়স আনুমানিক ২০। চেহারায় সংগ্রামের চিহ্ন স্পষ্ট। লঞ্চডুবিতে বাবাকে হারিয়েছে ছোটবেলায়। বাবা মারা যাওয়ার পর কোথাও ঠাঁই হয়নি তার। জীবন কেটেছে পথে-ঘাটে। কখনো কাজ করেছে মানুষের বাসায়। জীবনে চলতে চলতে একসময় পরিচয় হয় এক গার্মেন্টস কর্মীর সঙ্গে। পরে তাকে বিয়ে করেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই শুরু হয় স্বামীর নির্যাতন। স্বামীর নির্যাতনে গর্ভেই ফাতেমার সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। মৃত মেয়ে সন্তানের জন্ম দেযন তিনি। 

তার জীবনে আবারও নেমে আসে দুর্ভোগ। গত বছর করোনাকালে স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। অন্যত্র বিয়ে করে সংসার গড়েন। ফাতেমা তখন পুনরায় সন্তানসম্ভবা। শুরু হয় তার নতুন সংগ্রামী জীবন। সিদ্ধান্ত নেন রিকশা চালানোর। প্রথমে কেউ রিকশা দিতে রাজি না হলেও তার অনুনয়-বিনয়ে তাকে রিকশা চালাতে দেন এক ব্যক্তি।  দৈনিক ২৫০/৩০০ টাকা জমা দিতে হয় ফাতেমাকে। এভাবেই শুরু হয় রিকশার প্যাডেলে তার সংগ্রামী জীবনের নতুন অধ্যায়। 

সন্তান পেটে নিয়েও তাকে রিকশার প্যাডেল চাপতে হয়েছে। কিন্তু বিধিবাম। আবারও মৃত ছেলের জন্ম দেন ফাতেমা। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। তার মানসিক কষ্ট সইতে না পেরে তার বোন নিজের মেয়েকে দত্তক দেন তাকে। এ মেয়েই এখন তার সব‌। মেয়ের জন্যই নতুন করে যুদ্ধ শুরু করেন ফাতেমা। পথে পথে রিকশা চালিয়ে জীবন ধারণের চেষ্টা করছেন। কিন্তু আয়ের বেশিরভাব অংশই দিয়ে দিতে হয় মহাজনকে। নিজের একটি রিকশা হলে কষ্ট লাঘব হতো তার। 
তার এ কষ্টের জীবন কাহিনি গত কয়েকদিনে ফেসবুকে ভাইরাল হয়। 

বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মীর্জা পরম মমতায় পাশে দাঁড়িয়েছেন ফাতেমার। তিনি তাকে একটি রিকশা দিয়েছেন। যে কারণে সোমবার দিনটি ফাতেমার জীবনে এক বিশাল স্বপ্নপূরণের বড় ধরনের প্রাপ্তির। 
পুনাক সভানেত্রী জীবন যুদ্ধে সংগ্রামী এই নারীর হাতে তুলে দিয়েছেন ব্যাটারিচালিত একটি নতুন রিকশা। 

সোমবার সকালে রাজধানীর রমনায় পুনাকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে পুনাকের অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে ফাতেমার হাতে তুলে দেন নতুন রিকশা। দিয়েছেন উপহার সামগ্রীও। 

পুনাক সভানেত্রীর হাত থেকে রিকশা ও অন্যান্য উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত ফাতেমা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুনাক সভানেত্রী ফাতেমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, আজ থেকে তুমি আমার মেয়ে। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তখন সে বলে, জীবনে কখনো এত আদর কেউ করেনি। আজ আমি ভালোবাসা পেয়েছি, নতুন মা পেয়েছি। 

উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিল, ফাতেমা ও তার মেয়ের জন্য পোশাক, হিজাব, রেইনকোট, চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ ইত্যাদি।