মরিচ কেন শরীরে জ্বালা ধরায়, খুঁজতে গিয়ে পেলেন নোবেল

শরীরবিদ্যা বা চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবদানের জন্য এবার যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড জুলিয়াস (৬৬) ও লেবানন বংশোদ্ভূত ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোল্লার স্ক্রিপস রিসার্চে মলিকিউলার বায়োলজিস্ট ও নিউরো-সায়েন্টিস্ট আর্ডেম পটাপৌটিয়ান (৫৪)। সোমবার বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে এ পুরস্কার ঘোষিত হয়।

তাপমাত্রা এবং স্পর্শের বোঝার জন্য রিসেপ্টর আবিষ্কার করেছেন ডেভিড জুলিয়াস। উষ্ণতা, ঠান্ডা, এক ব্যক্তি বা বস্তু হতে আরেক বস্তুর স্পর্শ অনুভূতি কেন আলাদা আলাদা এটি বোঝার উপায় রিসেপ্টর। তিনি এই পরীক্ষায় কাঁচামরিচের থেকে পাওয়া একটি যৌগ ব্যবহার করেছিলেন। যৌগটির নাম- ‘ক্যাপসেসিন’। এই যৌগটি স্পর্শ করলে আমরা তীব্র জ্বালাবোধ করি। এই যৌগটির মাধ্যমেই জুলিয়াস প্রথম জানতে পেরেছিলেন, আমাদের স্নায়ুর সেন্সরগুলি কীভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি, বস্তু ও পরিবেশকে সাড়া দেয়। তাপমাত্রার তারতম্য বুঝতে পারে।

আমাদের স্নায়ুর এমন কয়েকটি সেন্সরের আবিষ্কার করেছেন আর্ডেম পটাপৌটিয়ান যা বাইরের যেকোনো চাপ আর তার রকমফেরের গন্ধ খুব দ্রুত নাকে পৌঁছে দেয়। চাপ আর তার তারতম্য বুঝতে পারে এমন কয়েকটি মানব কোষকে পরীক্ষা করে তিনি এই আবিষ্কার করেন।

এই দুই আবিষ্কারই অন্য কোনো ব্যক্তি, বস্তু ও পরিবেশের সঙ্গে আমাদের বোঝাপড়ার জটিল রহস্যভেদ করতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া তাদের এই আবিষ্কার নয়া পেনকিলার তৈরির পথ প্রশস্ত করতে পারে।

ডেভিড জুলিয়াস গবেষণাটি প্রায় ২০ বছর আগে চালিয়েছিলেন। মরিচ গায়ে ঘষলে কেন জ্বালা করে, এর উত্তর খুঁজতে গিয়েই তিনি মরিচের বিশেষ যৌগ ‘ক্যাপসেসিন’র সন্ধান পান। পরে তিনি মানবদেহের অনেকগুলো আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের ডিএনয়ের মধ্যে পরীক্ষা চালাতে গিয়ে লক্ষ্য করেন এদের মধ্যে একটির জিনে ‘ক্যাপসেসিন’র প্রভাব সবচেয়ে বেশি। সেটি ‘ক্যাপসেসিন’র স্পর্শ পাওয়া মাত্রই জেগে ওঠে, সক্রিয় হয়ে ওঠে। সেই সূত্র ধরেই তিনি মা্নব শরীরের ‘ক্যাপসেসিন’র গন্ধ শুকতে পারে এমন জিনটি শনাক্ত করতে সক্ষম হন। এই জিনটি একটি বিশেষ ধরনের প্রোটিন তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখে যা আমাদের স্নায়ুকে তাপমাত্রা, যন্ত্রণা ও বিভিন্ন ধরনের স্পর্শের তারতম্য বুঝতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে আর্ডেম পটাপৌটিয়ান খুঁজে পেয়েছেন মানবদেহে ৭২টি জিনের, যারা বাইরের চাপ আর তার তারতম্যে জেগে ওঠে বা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তার মধ্যে ‘পিয়েজো-১’ ও ‘পিয়েজো-২’ নামে দুটি জিন এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি তৎপর।

সুইডেনের ক্যারোলিঙ্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি জানিয়েছে, তাদের আবিষ্কার ‘জানতে সাহায্য করেছে, কীভাবে গরম, ঠান্ডা এবং যান্ত্রিক শক্তি' স্নায়ুর উত্তর দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। যা স্বাভাবিক ও সামাজিকভাবে একে অপরের সঙ্গে চলতে আমাদের সাহায্য করে।

নোবেল কমিটির সেক্রেটারি-জেনারেল থমাস পার্লমান বলেন, তাদের আবিষ্কার সত্যিই প্রকৃতির অন্যতম গোপন বিষয়কে উন্মোচিত করেছে। আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ।

নোবেল কমিটি আরও জানায়, লাল মরিচের সক্রিয় উপাদান ক্যাপসেসিন ব্যবহার করে স্নায়ুর উদ্দীপককে চিহ্নিত করেছেন ডেভিড জুলিয়াস। যা ত্বককে তাপমাত্রায় সাড়া দিতে সাহায্য করে থাকে। অন্যদিকে, কোষে ভিন্ন ধরনের চাপ সংবেদনশীল উদ্দীপকের সন্ধান পেয়েছেন আর্ডেম পটাপৌটিয়ান। যা যান্ত্রিক উদ্দীপকেও সাড়া দেয়।