কৃষক আন্দোলনে রণক্ষেত্র উ.প্রদেশ

ভারতের উত্তরপ্রদেশে দুই মন্ত্রীর সফর ঘিরে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। গত রবিবারের এই সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে চারজনই কৃষক। গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, রবিবার উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্য ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রর সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্যটির লখিমপুর খেরিতে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। সেই বিক্ষোভে হাজার হাজার কৃষক জড়ো হয়েছিলেন। সেখানেই অজয় মিশ্রর ছেলে আশিস গাড়িচাপা দিয়ে বিক্ষোভরত কৃষকদের হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও মন্ত্রী অজয় মিশ্র বলছেন, ওই গাড়িতে তিনি ও তার ছেলে কেউই ছিলেন না। এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী অজয় মিশ্র দাবি করেছেন, ‘আমার ছেলে ঘটনাস্থলে ছিল না। দুষ্কৃতিকারীরা লাঠি নিয়ে আক্রমণ করেছে। আমার ছেলে সেখানে থাকলে জীবিত ফিরে আসতে পারত না।’

সংযুক্ত কৃষক মোর্চার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গাড়িচাপার ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এমনকি মন্ত্রী-পুত্র গুলি করে এক কৃষককে হত্যা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে লখিমপুর খেরির অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সংঘর্ষে মোট আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কৃষকরাও রয়েছেন। এর মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে মন্ত্রীর কনভয়ের গাড়িতে চাপা পড়ে। সেই গাড়িতে মন্ত্রীপুত্র ছিলেন। যদিও বাকিদের কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

বেশ কয়েকটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, একটি গাড়ি বিক্ষোভরত কৃষকদের ধাক্কা দিতেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর দুটি গাড়িতে কৃষকরা আগুন লাগিয়ে দেন। দাবি করা হয়েছে, যারা গাড়িতে ছিলেন তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বাকি চারজন কৃষক। প্রতিবাদরত কৃষকরা মন্ত্রীর গাড়িবহরের দুটি গাড়িকে জোর করে থামান ও তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। এমনকি গাড়ির যাত্রীদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। কৃষক মোর্চার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত চার কৃষকের বয়স যথাক্রমে ৬০, ৩৫, ১৯ ও ২০ বছর।

প্রসঙ্গত, রাজ্যের লখিমপুরে নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় কংগ্রেসের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে আটক করেছে পুলিশ।