ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ পাঁচজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে, ঢাকার কোতোয়ালি থানায় হওয়া মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে সাইবার ট্রাইবুনাল ।
ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন এ মামলায় পিবিআইয়ের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
অব্যাহতি পাওয়া অন্য চারজন হলেন- ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম ও নাজমুল হাসান সোহাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি নাজমুল হুদা এবং কর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল্লাহ হিল বাকি।
এই মামলাটি করেছিলেন হাসান আল মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের এক শিক্ষার্থী। তিনি ধর্ষণের সহায়তাকারী হিসেবে নুরকেও মামলার আসামি করেছিলেন। বিচার চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনশনও করেছিলেন ওই ছাত্রী।
তার অনশনের প্রতিক্রিয়ায় তাকে আক্রমণ করে ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর ফেসবুক লাইভে এসে বক্তব্য দিয়েছিলেন নুর, সেই বক্তব্যকে ধরে ১৪ অক্টোবর ছয়জনকে আসামি করে মামলাটি করেছিলেন ওই ছাত্রী। এই মামলার তদন্ত করে পিবিআই।
পিবিআইর প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের তদন্তে নুরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যে শব্দটি ব্যবহার নিয়ে নুরের বিরুদ্ধে মামলাটি হয়েছিল, তা অভিধানে না থাকায় এ মামলা থেকে তিনি রেহাই পেয়েছেন।
নুর তার বক্তব্যে বাদীকে উদ্দেশ্য করে ‘দুশ্চরিত্রহীন‘ শব্দটি ব্যবহার করেন। কিন্তু ওই শব্দটি বাংলা একাডেমির অভিধানে নেই। এমনকি বাংলা ভাষাতেও নেই। তারপরও ওই শব্দের ব্যাখ্যা করলে দাঁড়ায় খারাপ চরিত্র নয় যার এমন ব্যক্তিকে।
পিবিআইর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নুরের ফেসবুক আইডি ডিজিটাল ফরেনসিক টিমের মাধ্যমে পরীক্ষা করেও মতামত নেওয়া হয়। তাতে বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রী কোতয়ালি ও লালবাগ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে দুটি মামলা করেছিলেন। ওই দুই মামলায়ও নুরের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পায়নি উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।