হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে হটানোর অভিযানে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে আদিলুর রহমান খান শুভ্রের বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে মামলার বাদী ডিবির তৎকালীন উপপরিদর্শক (বর্তমানে সিআইডির পরিদর্শক) আশরাফুল ইসলাম সাক্ষ্য দেন।
আদিলুর রহমান খান শুভ্র মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক। মামলার অপর আসামি সংগঠনটির পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান। তথ্য প্রযুক্তি আইনে করা এই মামলায় তারা দুজনই জামিনে রয়েছেন।
মঙ্গলবার আদালতে জবানবন্দিতে পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফুল বলেন, “হেফাজতে ইসলামের ওই সমাবেশে পুলিশের উপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ২০১৩ সালের ৫ মে সকালে পুলিশসহ ১১ জন মারা যান। অথচ অধিকারের ওয়েবসাইটে একই বছরের ১০ জুন ৬১ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়।”
তিনি বলেন, “ওই প্রতিবদনে বিভিন্ন সময়ে নাশকতার পুরনো কিছু ছবিও যুক্ত করা হয়। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে উস্কানি ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে ২০০৬ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭(১)(২) ধারার অপরাধের উপাদান পাওয়া যায়।”
জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ রুহুল আমিন ভুঁইয়া তাকে জেরা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম।
শাপলা চত্বরে অভিযানের পর ২০১৩ সালের ১০ অগাস্ট গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ডিবির তৎকালীন এসআই আশরাফুল ইসলাম। ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে আদিলুর ও এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা হয়। পরদিন মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
আইনজীবী আদিলুরকে মামলা দায়েরের দিন ১০ অগাস্ট রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুই মাস পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।