‘সাদা পোশাকে’ রবির শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে যেতে হুমকির অভিযোগ

ডিএসবি পুলিশ পরিচয়ে ও সাদা পোশাকে সাত থেকে আটজনের একটি দল রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হতে সরে যেতে হুমকি দিয়েছে। ছাত্রাবাস ও বাসাবাড়িতে গিয়ে আন্দোলনে জামাত-শিবির অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটতে পারে এমন শঙ্কা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে যেতে হুমকি দেওয়ার এই অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার পরেই মঙ্গলবার দুপুরে রবির রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য আব্দুল লতিফ বরাবর ব্যবস্থা নিতে স্মারকলিপি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রারকে জানায়, এ ঘটনার পর থেকে তারা পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভীত ও শঙ্কিত। তারা উপাচার্যের কাছে তাদের নিরাপত্তার দাবি করেন।

তবে, দুপুরে স্মারকলিপি দিলেও রাত ৯টা পর্যন্ত খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শাহজাদপুর থানা-পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেননি।

এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রুকাইয়া সুস্মিতা জানান, ডিএসবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকে সাত থেকে আটজনের একটি দল সোমবার আমাদের বাসায় এসে আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার জন্য আমাকে এবং আমার পরিবারকে হুমকি দেয়।

অর্থনীতি বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র সাদ বিন শফিক দ্বারিয়াপুরের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। সেখান থেকে তাকে এবং বিভিন্ন এলাকায় থাকা ছাত্রদের দ্বারিয়াপুরের বিসিক রোডের শাহ মখদুম ছাত্রাবাসে ডেকে নিয়ে আসে ডিএসবি পরিচয়ের পুলিশ।

এ সব ছাত্রদের মধ্যে সাদ বিন শফিক ও হাসিবুর রহমান বলেন, ডিএসবি পুলিশের ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি দল আমাদের আন্দোলন থেকে সরে যেতে হুমকি দেয়। ডিএসবি পরিচয়ে তারা আমাদের বলেছে, এই আন্দোলনে জামাত-শিবিরের অনুপ্রবেশ ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য এর দায় ছাত্রদের নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের চুল কাটার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব খান মোহাম্মদ আরমানের কাছে অসুস্থতার কথা বলে দুই সপ্তাহের সময় চেয়ে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। আমরা তাকে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের সময় দিয়েছি।

নির্যাতনের শিকার ওই ১৪ শিক্ষার্থীসহ ৫৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন বলেন, আমি দুই সপ্তাহের সময় চেয়ে একটি আবেদন করেছি তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব বরাবর। তার কোনো জবাব পাইনি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ডিএসবি পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, আটজন নয়, আমরা সেখানে গিয়েছিলাম চারজন। আমাদের কাছে ইনফরমেশন ছিল এ আন্দোলনে জামাত-শিবির ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এ জন্য ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেখানে যাই। সোমবার বেলা ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কথা বলি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য রক্ষা করেই কথা বলা হয়েছে। তাদের কাউকেই কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই। কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। এ বিষয়ে রবির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যও কিছু জানাননি। তারা জানালে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী জানান, এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপাচার্যকে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদের নিরাপত্তার প্রশ্নে উপাচার্যের সঙ্গে পরামর্শ করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ জানান, আমাদের শিক্ষার্থীদের ডিএসবি পুলিশের হয়রানির বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো হয়রানির শিকার হতে না হয় সে জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

উল্লেখ্য, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্তৃক ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কর্তনের ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনির আশ্বাসে সোমবার পর্যন্ত আন্দোলন শিথিল করে। এ অবস্থায় ডিএসবি পুলিশের আচরণে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রবির ক্যাম্পাস।