ফরাসি পাদ্রিদের যৌন নির্যাতনের শিকার ২১৬০০০ শিশু

ফ্রান্সের ক্যাথলিক চার্চের পাদ্রিদের হাতে গত ৭০ বছরে ২ লাখ ১৬ হাজার শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সম্প্রতি নতুন এক তদন্তে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। তদন্তে বলা হয়, ২৯০০ থেকে ৩২০০ নির্যাতনকারী পাদ্রীর হাতে ওই শিশুরা নির্যাতিত হয়েছিল। একই সঙ্গে তদন্তকারীরা জানান, নির্যাতনের শিকার শিশুদের প্রতি চার্চ নির্দয় আচরণ করেছে।

নতুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফরাসি চার্চের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওই ঘটনাকে ‘লজ্জার এবং ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দেন। নির্যাতনের শিকার একজন জানান, যৌন নির্যাতন বন্ধে চার্চের অনেক কিছু করার থাকলেও কর্র্তৃপক্ষ কিছু করেনি। পাদ্রিদের হাতে কতসংখ্যক শিশু সত্যি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। লা প্যারোল নামে নির্যাতিতদের একটি সংস্থা বলছে, এই সংখ্যা ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা দেভু এ ঘটনাকে ফ্রান্সের ইতিহাসের অন্যতম বাঁক উল্লেখ করে বলেন, ‘আপনি শেষমেশ চার্চের দায়বদ্ধতাকে কেন্দ্র করে নির্যাতিতদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলেন। অথচ বিশপরা এবং পোপ এ বিষয়টি নিয়ে এখনো কথা বলতেও প্রস্তুত নন।’ নতুন এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ছিল ফরাসি ক্যাথলিক চার্চ, আদালত ও পুলিশ। গত আড়াই বছর ধরে নির্যাতিত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ওপর নির্ভর করে ওই তদন্ত করা হয়। তদন্ত দলের প্রধান জ্যা মার্ক সুভে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্যাতিতের এই সংখ্যা সত্যিই উদ্বেগজনক। পাদ্রিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে এবং এই অভিযোগের বিপরীতে তাদের চুপ করে থাকার সুযোগ নেই।’

আড়াই হাজার পৃষ্ঠার ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌন নির্যাতনের শিকার অধিকাংশ শিশুর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠই ছেলেশিশু এবং তাদের বয়স ১০ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। ১ লাখ ১৫ হাজার পাদ্রির মধ্যে ৩২০০ জনকে নির্যাতনকারী বলা হলেও এই সংখ্যা আরও বেশি বলেও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। চার্চ শুধু যৌন নির্যাতন বন্ধ করতেই ব্যর্থ হয়নি, পাশাপাশি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেনি। ফলে আরও অনেক শিশু পাদ্রিদের যৌন লালসার শিকার হয়েছে। এ নিয়ে চার্চের কর্র্তৃপক্ষের মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। বিশপদের কনফারেন্স অব ফ্রান্সের (সিইএফ) প্রেসিডেন্ট আর্চবিশপ এরিক ডি মুলিন্স বেফোর্ট বলেন, ‘আজ আমি আপনাদের সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে চাই।’ চলতি বছরের শুরুতে পোপ ফ্রান্সিস রোমান ক্যাথলিক চার্চের এই আইন বদল করেন। ওই আইন বদলের ফলে যৌন নির্যাতনকে চার্চ এখন অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।