গত দেড় বছর ধরে মহামারি করোনা ও দেশের প্রতিটি জেলায় লকডাউন ছিল। ছিল সকল কাজকর্ম বন্ধ এমন অবস্থায় দেশের দরিদ্র আরও দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে আসে।
এই দরিদ্র পরিবারদের স্বামীর পাশাপাশি স্ত্রী এবং বিধবাসহ দুস্থ পরিবারদের সচ্ছল করার লক্ষ্যে মাদারীপুর জেলায় মাদারীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের মাধ্যমে পল্লী সড়ক ও কালভার্ট মেরামত, পাকা সড়কের শোল্ডারের কাজে ৮৪ জন ও আর ই আর এমপি প্রকল্পে মাধ্যমে ৪ উপজেলায় ৬০০ জন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছে। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের পরিবারকে সচ্ছল করা হচ্ছে।
করোনাকালীন সময়ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ দুস্থ নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য মাদারীপুর জেলায় কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
পল্লী সড়ক ও কালভার্ট মেরামত কর্মসূচির আওতায় ৮৪ জন নারী শ্রমিক নিয়মিতভাবে পাকা সড়কের শোল্ডারের কাজ করছে।
এদিকে আরই আর এমপি প্রকল্পে জেলার ৪টি উপজেলার ৬০টি ইউনিয়নে ৬শ জন দুস্থ নারী শ্রমিক কাজ করছে। জেলায় ১ বছরে ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দে পল্লী সড়ক ও কালভার্ট মেরামতের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের প্রতিদিন জন প্রতি ৩০০ টাকা এবং সারা বাংলাদেশে ১০২০৭.৫০ লাখ টাকায় ৪ বছর মেয়াদে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ নারী শ্রমিকদের জন প্রতি ২৫০ টাকা করে দেয়া হচ্ছে।
তবে ২ বছর মেয়াদি ও ৪ বছর মেয়াদি এ দুটো প্রকল্পের মোট ৬৮৪ জন শ্রমিকের প্রত্যেকের কাছ থেকে সঞ্চয়ের জন্য প্রতিদিন অল্প কিছু টাকা জমা রাখা হচ্ছে।
যার থেকে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তাদের আত্মকর্মসংস্থান এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রত্যেক অসহায় ও দুস্থ নারী শ্রমিক পাবে ৭২ হাজার টাকা।
এলজিইডির মাধ্যমে যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এতে এক সময় জেলার প্রতিটি ইউনিয়নের দারিদ্র্য বিমোচন হবে। তবে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে সরকারের উচিত হবে এই প্রকল্প নিয়মিত এবং শ্রমিক বৃদ্ধি করে অসহায় দুস্থ পরিবারকে আরও সচ্ছল করে তুলবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
এলজিইডি আরইএমপি প্রকল্পের শ্রমিক শিল্পী বেগম বলেন, আমি আরই এমপি কাজ করে আল্লাহুর রহমতে অনেক ভালো আছি, এখন নিজের সন্তানদের পড়াশোনা করাতে পারতেছি, আগে আমি বাসাবাড়িতে ঝির কাজ করতাম কিন্তু দু-বেলা খাবার খেতে অনেক কষ্ট হতে স্বামী সন্তান নিয়ে।
মাদারীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি), নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আক্তার বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও এলজিইডি মিলে আমার দারিদ্র্য বিমোচন করার লক্ষ্যে আমাদের ৪টি উপজেলায় দুটি প্রকল্পে ৬৮৪ জন কাজ শ্রমিক কাজ করছে এবং এই কাজের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার তাদের পরিবারকে সচ্ছল করে তুলতে পেরেছে।
তা ছাড়া এই শ্রমিকদের দৈনিক হাজিরা থেকে যে টাকা সঞ্চয় রাখা হয় তাও প্রকল্প শেষে তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে এক সঙ্গে ৭২ হাজার টাকা।