যশোরে স্ত্রী মুখে গামছা ঢুকিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে মনিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো.ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম ইদ্রিস আলী।
সরকারি কৌঁসুলি জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলাম বাঘারপড়া উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে মনিরুল তার স্ত্রী তারা বেগমকে মুখের মধ্যে গামছা দিয়ে তারপর বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। হত্যার পর প্রচার করেন স্ত্রী বাড়ি থেকে চলে গেছেন। এ ঘটনার ২৫ দিন পর ৮ অক্টোবর তারা বেগমের মা সবুরা খাতুন জামাই বাড়িতে এসে নাতির (নিহত তারা বেগমের ছেলে) আবু হুরাইরার কাছে জানতে পারেন তার মেয়েকে হত্যার কথা।
আরও জানা যায়, বিষয়টি তিনি স্থানীয় ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই শিবু প্রসাদকে জানান। পুলিশের এ কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক মনিরুলের বাড়িতে আসেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন স্ত্রীকে হত্যার পর সে তার বাড়ির পাশে বাগানে মাটি চাপা দিয়ে রেখেছে।
এ সময় মনিরুলকে আটক করা হয়। পরদিন ৯ অক্টোবর বাঘারপাড়া থানার পুলিশ পুতে তারা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় তারা বেগমের মা সবুরা বেগম বাঘারপাড়া থানায় মনিরুলকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শিবু প্রসাদ দত্ত তদন্ত শেষে আসামি মনিরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে আদলতে চার্জশিট দাখিল করে। আদালত বৃহস্পতিবার বিচার প্রক্রিয়া শেষে মনিরুলকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলামের সঙ্গে ১৯ বছর আগে বাঘারপাড়া উপজেলার হাবুল্লা গ্রামের তারা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে।
মনিরুল ইসলাম তার স্ত্রীকে বিভিন্ন কারণে মারধর করত বলে আদালতে জানান মামলার বাদী সবুরা বেগম।