সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়াকে বাংলাদেশে ১০ লাখ ডোজ করে কোভিশিল্ড টিকা রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। বৃহস্পতিবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশে কোভিশিল্ড টিকা সরবরাহে সেরাম বেক্সিমকোর সঙ্গে চুক্তি করেছিল। এ বছরের মার্চ, এপ্রিল, মে মাসে ভারতে করোনা তীব্র আকার ধারণ করলে টিকা সরবরাহ বন্ধ করে সেরাম।
সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যের অ্যাস্ট্রাজেনেকাকে প্রায় ৩ কোটি ডোজ কোভিশিল্ড সরবরাহের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে সেরামকে।
অ্যাস্ট্রাজেনেকাকে টিকা সরবরাহের চুক্তির কথা উল্লেখ করে সেরামের পরিচালক (সরকার ও নিয়ন্ত্রক বিষয়ক) প্রকাশ কুমার সিং আগস্ট মাসে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্দাভিয়ার কাছে টিকা রপ্তানির অনুমতি চেয়েছিলেন।
মান্দাভিয়া গত ২০ সেপ্টেম্বর এক ঘোষণায় জানিয়েছিলেন যে ভারত 'ভ্যাকসিন মৈত্রী' কর্মসূচির আওতায় অক্টোবরে উদ্বৃত্ত টিকা রপ্তানি পুনরায় শুরু করবে।
ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন টিকার ১০ লাখ ডোজ ইরানে পাঠানো হবে এবং অক্টোবর মাসে 'ভ্যাকসিন মৈত্রী' কর্মসূচির আওতায় সেরাম মিয়ানমার, নেপাল ও বাংলাদেশে কোভিশিল্ডের ১০ লাখ ডোজ টিকা রপ্তানি করবে।
অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা পুনের প্ল্যান্টে উৎপাদন করে কোভিশিল্ড নামে বাজারজাত করছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদনকারী কোম্পানি সেরাম ইনস্টিটিউট।
এ কোম্পানি থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ ‘কোভিশিল্ড’ কিনতে গত বছরের নভেম্বরে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে বাংলাদেশ। এরপর জানুয়ারিতে ৬০০ কোটি টাকার বেশি অগ্রিম হিসেবে দেয় সরকার, যা টিকার মোট দামের অর্ধেক।
চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসার কথা ছিল। গত ২৫ জানুয়ারি প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় চালানে ২০ লাখ ডোজ টিকা আসে বাংলাদেশে।
পাশাপাশি ভারত সরকারের উপহার হিসেবে ২১ জানুয়ারি আরও ২০ লাখ ডোজ এবং ২৬ মার্চ ১২ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড পেয়েছে বাংলাদেশ।