‘বাংলাদেশ-নেপাল ফাইনাল’

কাগজে-কলমে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কটা এখনো চুকে যায়নি তার। সাফ অভিযানের ১০ দিন আগে বাফুফে তাকে ছুটি দিয়েছে দু’মাসের। জেমির জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে বসুন্ধরা কিংসের সফল কোচ অস্কার ব্রুজনকে। বাফুফে বিষয়টা ছুটি হিসেবে উল্লেখ করলেও আদতে জেমিকে যে আর ফেরানো হবে না, সেটা সবার মতো ব্রিটিশ কোচ নিজেও বুঝতে পারছেন। তারপরও চুক্তি অটুট আছে বলেই খোলাসা করে কিছু বলছেন না। শুধু দূর থেকেই শুভকামনা জানিয়েছেন দলকে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে তিনি দেখতে পাচ্ছেন ১৬ অক্টোবরের ফাইনালের মঞ্চে। এখন পর্যন্ত আসরে হওয়া সব ম্যাচ দেখে ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে তিনি দেখতে পাচ্ছেন নেপালকে।

দলের সঙ্গে থাকার সুযোগ হুট করে হাতছাড়া হওয়ায় স্বভাবতই জেমির মনটা ভালো থাকার কথা নয়। প্রিয় শিষ্যদের সঙ্গটা খুব মিস করছেন দূরে বসে। তবে আবেগটা সেভাবে প্রকাশ করছেন না। বরং বলেছেন, ‘অনেক দিন পর পরিবারের সঙ্গে কিছু দারুণ সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছি। এটাকে উপভোগ করছি।’ অবসরে অবশ্য ঠিকই দৃষ্টি রাখছেন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলোর দিকে। দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি ভারতের হতশ্রী দশা দেখে জেমি বলেন, ‘বাংলাদেশের পর শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও ড্র করে ভারতের সম্ভাবনা প্রায় শেষ বললেই চলে। এই ড্রয়ে বাংলাদেশের লাভ হয়েছে। ভারতের ফাইনালে আসতে হলে নেপাল ও মালদ্বীপকে হারাতে হবে। এই খেলা দিয়ে সেটা মনে হয় না তারা পাবরে।’ জেমির সঙ্গে কাল এই প্রতিবেদকের কথা হয় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ ম্যাচের আগে। সেই ম্যাচ নিয়ে একটা ভবিষ্যদ্বাণীও করেছেন কোচ, ‘আমার ধারণা বাংলাদেশ জিতবে। যদি জিতে যায় তাহলে আমি মনে করি ফাইনালটা হবে বাংলাদেশ বনাম নেপাল। কারণ দুই ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে নেপাল এবার খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে।’

মালেতে বাংলাদেশের ডাগআউটে দাঁড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সবকিছু বদলে গেল। মালের বদলে জেমিকে ধরতে হলো লন্ডনগামী বিমান। প্রায় তিন বছর জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকার পর গুরুত্বপূর্ণ একটা আসরের আগে এভাবে দায়িত্ব ছাড়তে হবে হয়তো ভাবেননি জেমি, ‘দলের একটা অধ্যায় (খেলোয়াড়দের সঙ্গ) অবশ্যই খুব মিস করছি। তবে অন্য অধ্যায়টা একদমই না। জানতে চাইবেন না অন্য অধ্যায়টা কী। কারণ আমি এখনো বাফুফের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ।’ সাফের পর বাংলাদেশ চারজাতি আসরে অংশ নেবে শ্রীলঙ্কায়। সেখানে নিজের দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না কোচ, ‘আমার মনে হয় বাফুফে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। তারা বিষয়টি শুধু বিলম্বিত করছে। আমার মনে হয় না তারা আমাকে আর দায়িত্বে ফেরাতে চায়। এখন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে কোনো কথা হয়নি। দেখি ভবিষ্যতে কী হয়।’ দল নিয়ে ব্রুজনের সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জেমি বলেন, ‘সেভাবে কোনো কথা হয়নি। কেবল তাকে আমি শুভকামনা জানিয়েছি। আর ঢাকা ছাড়ার আগে একটা প্রাথমিক দলের তালিকা দিয়ে এসেছিলাম। এইটুকুই।’