বৃহস্পতিবার ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রেসিডেন্ট ৮০ সদস্যবিশিষ্ট নতুন যে নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেছেন তাতে মেনকা গান্ধী ও বরুণ গান্ধীর স্থান হয়নি। বাদ পড়ার পর বরুণ বলেছেন, ৫ বছর ধরে তিনি বিজেপির নির্বাহী কমিটির সভায় যান না।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর চাচাতো ভাই বরুণের সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের দূরত্ব যে প্রকট, তা বোঝা যাচ্ছিল। লখিমপুরের ঘটনায় বরুণ ও তার মা মেনকা বিজেপির কড়া সমালোচনা করেছিলেন।
লাখিমপুর খেরি কাণ্ডে উত্তরপ্রদেশ সরকারের ভূমিকায় আজ শুক্রবার রীতিমতো অসন্তোষ প্রকাশ করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিল, উত্তরপ্রদেশ সরকার এই ঘটনায় এখনও উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়নি। আদালতের কথা, এই ঘটনায় পুলিশ আর পাঁচটা সাধারণ ঘটনার মতোও সক্রিয়তা দেখায়নি। এক্ষেত্রে শুধু কথা হয়েছে, কিন্তু কাজ হয়নি।
গত রবিবার লাখিমপুর খেরিতে কৃষকদের বিক্ষোভ চলাকালীন গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় চার কৃষকের। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এলাকা। পুলিশ গেলে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান প্রতিবাদীরা। চলে গণপিটুনিও। সেই হিংসাত্মক পরিস্থিতির মাঝে পড়ে প্রাণ হারান আরও ৪ জন।
এ ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ সরকারের তদন্তের গতি অত্যন্ত মন্থর। এদিন শীর্ষ আদালতে রীতিমতো তিরস্কৃত হতে হয়েছে যোগী সরকারকে। মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা মন্তব্য করেন, ‘সামগ্রিক ঘটনাটাই অত্যন্ত গুরুতর। উত্তরপ্রদেশ সরকার যে ভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে, তাতে আমরা একেবারেই সন্তুষ্ট নই’।
ভারতের প্রধান বিচারপতির বলেন, ‘৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় যোগী সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়নি। তদন্তের কাজ আদৌ সেভাবে আগায়নি। অন্য ঘটনা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করত। এক্ষেত্রে সেসব হয়নি’।
এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র (Ajay Mishra) টেনির ছেলে আশিস মিশ্র মনু এখনও গ্রেপ্তার হননি। সেটা নিয়েও অসন্তুষ্ট সুপ্রিম কোর্ট। যোগী সরকার এ প্রসঙ্গে জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার মনুকে ডাকা হয়েছিল। তিনি হাজিরা দেননি। আগামীকাল শনিবার ফের তাঁকে তলব করা হয়েছে। সেদিনও না এলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার রাস্তা খোলা থাকছে।
বিজেপির নির্বাহি কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন একসময়ের প্রভাবশালী বিজেপি নেতা, সাবেক মন্ত্রী সুব্রামানিয়ান স্বামীও। বাদ পড়ার পর সুব্রামানিয়ান তার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বিজেপির পরিচয়ও ঝেড়ে ফেলেছেন, এখন সেখানে নিজের পরিচয় রেখেছেন কেবল রাজ্যসভার সাংসদ, মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সদস্য, হার্ভার্ড থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ও অধ্যাপক।
এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেওয়া অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী এবার দলটির নির্বাহী কমিটিতেও স্থান পেয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেওয়া অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী এবার দলটির নির্বাহী কমিটিতেও স্থান পেয়েছেন। মিঠুন ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও বেশ কয়েকজন স্থান পেয়েছেন।