ছাত্রদের চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

লক্ষ্মীপুরের একটি মাদ্রাসায় ৭ জন ছাত্রের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক মঞ্জুর কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কাজীর দিঘীরপাড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে রায়পুর থানা পুলিশ।

ছাত্রদের চুল কেটে দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর একজন ছাত্রের অভিভাবক থানায় মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার মঞ্জুর কবিরকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রদের চুল কাটা নিয়ে প্রথমে তাকে আটক করা হয়।

‘পরে এই বিষয়ে একজন ছাত্রের অভিভাবক শিশু আইনে মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওটাতে দেখা যাচ্ছে একজন ব্যক্তি কয়েকজন ছাত্রের চুল কেটে দিচ্ছেন। একজন ছাত্রের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার মাথার সামনের অংশের চুল কেটে দিচ্ছেন তিনি।

ওই ভিডিওতে থাকা একজন ছাত্রের মা বলেন, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। তার চুল তো শিক্ষক কেটে নিতে পারে না। আমি সেই কারণে মামলা করেছি।’

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেখ কামাল জানান, ঘটনাটি ঘটে ১৮ সেপ্টেম্বর। কিন্তু শুক্রবার একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মঞ্জুর কবির চুল কাটার কথা স্বীকার করেছেন।

ওই শিক্ষক বলেছিলেন, আমি ছাত্রদের বলেছি বড় চুল দেখতে ভালো লাগে না। চুল যেন তারা কেটে ফেলে। কিন্তু তারা কাটেনি। এরপর আমি নিজেই কেটে দিয়েছি আর বলেছি সেলুনে গিয়ে বাকিটা কেটে নিতে।

এর আগে সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের ১৪ জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। ওই শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে।

অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই পদ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিন পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।