ইসলামিক স্টেটকে শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার তালেবানের

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুন্দুজ শহরের একটি শিয়া মসজিদে গতকাল যে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে তাতে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে তালেবান। গতকালের হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর আফগান শাখা আইএস-কে।

গতকাল জুমার নামাজের সময় মসজিদটিতে শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বরাতে র‍য়টার্স জানিয়েছে, বিস্ফোরণে প্রায় ৭০-৮০ জন মানুষ নিহত এবং ২০ জন মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। এছাড়া আরও অন্তত ১৫০ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের সময় মসজিদে তিনশোর বেশি মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

তালেবান মুখপাত্র এবং আফগান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপমন্ত্রী জবিউল্লাহ মুজাহিদ অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, এই ঘৃণ্য হামলার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি এক টুইটার বার্তায় বলেন, ইসলামিক আমিরাত এই ঘৃণ্য হামলার জোরালো ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

গতকালই জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আফগানিস্তানের টোলো নিউজ এজেন্সিকে বলেছিলেন, উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশকে (আইএস) তালেবান কোনো হুমকি মনে করে না তবে তারা মাথা ব্যথার কারণ। এর কয়েক ঘণ্টা পরই কুন্দুজ শহরের শিয়া মসজিদে ভয়াবহ বোমা হামলা হয়।

জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছিলেন, ‘দায়েশের (আইএস) প্রতি আফগান জনগণের কোনো সমর্থন নেই এবং নিশ্চয়ই তারা খুব শিগগিরই নির্মূল হবে’।

হেরাত প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা মৌলভি নায়িমুল হক হক্কানি বলেছেন, তার দেশে শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যকার ঐক্য শত্রুদের ক্ষুব্ধ করেছে।

তালেবান নেতা মৌলভি নায়িমুল হক হক্কানি বলেন, আজ শিয়া ও সুন্নী মুসলমানরা পরিপূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে আফগানিস্তানে সহাবস্থান করছেন যেটি ইসলামের শত্রুরা সহ্য করতে পারছে না।