‘আরেকটি ব্যালন ডি’অর দারুণ হবে’

লিওনেল মেসি পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর বিশ্ব ফুটবলের নতুন ত্রয়ীর জন্ম নিয়েছে, যাদেরকে বলা হচ্ছে এমএনএম (মেসি-নেইমার-এমবাপে)। ২০১৭ সালে নেইমার বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যাওয়ার আগে কাতালান ক্লাবটিতে মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজের ত্রয়ী অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়েছিল। অনেকের চোখে ফুটবলের মান, সৌন্দর্য আর গোলের সংখ্যা ও ধরন বিবেচনায় নিলে সর্বকালের সেরা ত্রয়ীই ছিল মেসি-নেইমার-সুয়ারেজের ‘এমএনএস’। ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবলে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে সেই তুলনায় দুই ত্রয়ীর মধ্যে পার্থক্যটা তুলে ধরেছেন মেসি নিজেই।

‘প্রথমত, বয়স (হাসি)! নেইমারের সঙ্গে যখন খেলা শুরু করেছিলাম, তখন বয়স আরও কম ছিল আমাদের। আর আজ আমাদের মধ্যে সবচেয়ে তরুণ হচ্ছে কিলিয়ান। তা ছাড়া লুইস আর কিলিয়ান পুরোপুরি ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়। লুইস একেবারে নিখুঁত নাম্বার নাইন, একজন সেন্টার ফরোয়ার্ড, যে কিনা বক্সে সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর, অনেক অনেক গোল করতে পারে’ বলেছেন মেসি।

এবার ব্যালন ডি’অরের প্রাথমিক ৩০ তালিকায় নাম রয়েছে মেসির। সপ্তম ব্যালন ডি’অর প্রসঙ্গে মেসি বলেন, ‘এই পুরস্কারের (ব্যালন ডি’অর) ছয়টি নিজের কাছে থাকাটা দারুণ বিষয়। তাও আবার একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে। আবারও এই পুরস্কার জেতাটা হবে আরও দুর্দান্ত।’ এমবাপের লক্ষ্য ব্যালন ডি’অর জেতা। এমবাপেকে এই পুরস্কার পেতে কী উপদেশ  দেবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি তাকে উপদেশ দেওয়ার কেউ না। আমি শুধু বলতে পারি, এগুলো নিয়ে ভাবি না। আমি নিজে পুরস্কারগুলো জিতেছি ম্যাচ, শিরোপা জয় এবং ভালো কাজের (খেলার) জন্য।’ তবে এমবাপেকে নিয়ে মুগ্ধতাই ঝড়ে মেসির কণ্ঠে, ‘কিলিয়ান আরেকটু বেশি সময় বল পায়ে রাখতে পছন্দ করে। ও অনেক শক্তিশালী, ভয়ংকর গতির একজন খেলোয়াড়। আপনি একটু জায়গা ছেড়ে দিলেন, তো ও আপনাকে খুন করে ফেলতে পারে! কিলিয়ানও অনেক অনেক গোল করতে পারে। দুজনই (এমবাপে ও নেইমার) অসাধারণ খেলোয়াড়, তবে দুজনের দক্ষতা অনেক ভিন্ন।’

২১ বছর পর বার্সেলোনা ছেড়েছেন মেসি। বার্সেলোনা ছেড়ে আসাটা কষ্টদায়ক ছিল তা আবারও বলেছেন মেসি, ‘এতগুলো বছর পর বার্সেলোনা ছেড়ে আসা আমার জন্য ছিল অনেক কষ্টের। আমি নিজেকে এবং পরিবারকে বলেছিলাম ক্যারিয়ারটা বার্সেলোনাতে শেষ করব। তাই এটা ছিল কঠিন একটা সিদ্ধান্ত। শেষ পর্যন্ত এই অগ্নিপরীক্ষাটা পার করতে পেরেছি।’

ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে যাওয়ায় ২০১৪’র বিশ্বকাপ জেতা হয়নি মেসির। ২০১৬’র কোপার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর অবসরও নিয়ে নেন তিনি। সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ২০১৮’র বিশ্বকাপ খেলেন। কিন্তু সেখানে ফ্রান্সের কাছে দ্বিতীয় পর্বে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত গত জুলাইয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শিরোপার স্বাদ পান মেসি। একজন কিংবদন্তির শিরোপা ছাড়া মানায়! মেসি বলেন ‘সত্যি বলতে, শিরোপা জিততে পারা আমার কাছে পায়ে বিঁধে থাকা কাঁটার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একটা শিরোপা না জিতে অবসরে যাওয়ার বিষয়টা ভাবতে পারি না। আমি এই সুন্দর অধ্যায়টা আমার গল্পে যোগ করতে চেয়েছিলাম।’