মেসির ৮০, গোলহীন নেইমার

আর্জেন্টিনার জয়ে ফেরার রাতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রথমবার পয়েন্ট নষ্ট করেছে ব্রাজিল। আগের ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করা আর্জেন্টিনা নিজেদের মাঠে ৩-০ গোলে হারিয়েছে উরুগুয়েকে। অন্যদিকে, টানা ৯ জয়ের পর কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে নেইমাররা। এই এক পয়েন্টে অবশ্য কাতার চূড়ান্তপর্ব খেলা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। গত চার আসরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২৮ পয়েন্ট চূড়ান্তপর্ব ওঠার জন্য যথেষ্ট। সমান ম্যাচে আর্জেন্টিনার সংগ্রহ ২২ পয়েন্ট। ১১ ম্যাচ খেলে উরুগুয়ে ও ইকুয়েডরের পয়েন্ট ১৬ করে। এক পয়েন্ট কম নিয়ে কলম্বিয়া আছে পাঁচ নম্বরে।  রবিবার ভেনেজুয়েলা ২-১ গোলে ইকুয়েডরকে, চিলি ২-০ গোলে প্যারাগুয়েকে, বলিভিয়া ১-০ গোলে পেরুকে হারিয়েছে।

আরও উঁচুতে মেসি

বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৩৮ মিনিটেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। গোলদাতা লিওনেল মেসি। অবশ্য গোলটিতে ভাগ্য সহায় ছিল। মেসির উঁচু করে বাড়ানো বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি নিকোলাস গনজালেস। বলের নাগাল পাননি উরুগুয়ে গোলরক্ষকও। সবাইকে ফাঁকি দিয়ে বল জড়ায় জালে! আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি মেসির ৮০তম গোল। ৪৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রদ্রিগো ডি পল। বল পেয়ে যান লাউতারো মার্তিনেজ। তিনি ঠিক মতো শট নিতে পারেননি। কেউ ক্লিয়ার করার আগেই ছুটে গিয়ে বল জালে পাঠান ডি পল। জাতীয় দলে এটি তার দ্বিতীয় গোল। ৬২ মিনিটে তৃতীয় গোলটি আসে মার্তিনেজের পা থেকে। দেশের জার্সি গায়ে ৩১ ম্যাচে ১৫ গোল করলেন তিনি।

আর্জেন্টিনার এই সহজ জয়ে বড় ভূমিকা ছিল গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের। বেশ কয়েকবার দলকে বাঁচিয়ে দেন তিনি। লুইস সুয়ারেজকে দু’বার গোল বঞ্চিত করেন দুর্দান্ত সেইভে। তাই তো ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মেসির কণ্ঠে এমির প্রশংসা। মেসি বলেন, ‘যখন থেকে সে (এমি মার্তিনেজ) দলে এসেছে, সবসময় অসাধারণ পারফর্ম করছে। আমাদের এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন গোলরক্ষক আছে। আর এটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে কোপা আমেরিকা থেকেই।’ অসাধারণ এ জয়ে খুশি মেসি, ‘আমরা দারুণ একটি ম্যাচ খেলেছি। আমি মনে করি আমরা অনেক উন্নতি করছি। এটি কঠিন ম্যাচ ছিল, যা আমাদের জিততে হতো। আশা করছি এই (জয়ের) ধারা অনেক দিন থাকবে।’

১৫ ভুল পাস নেইমারের

বাছাই পর্বে ৬ ম্যাচ অপরাজিত কলম্বিয়া নিজেদের মাঠে ব্রাজিলের সঙ্গে খেলতে নামে। এবারও হারেনি তারা। ৪-৪-১-১ ফরমেশনে খেলে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে আটকে দিয়েছে। অথচ গেল জুনে কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ২-১ গোলে হারিয়েছিল কলম্বিয়াকে। বল দখলে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও গোলে শট বেশি নেয় কলম্বিয়া। আগের ম্যাচে কার্ডের খাঁড়ায় দলে ছিলেন না নেইমার। রবিবার তিনি ফিরলেও তেমন কিছু করতে পারেননি। ১৫টা ভুল পাস হয়েছে তার। শুধু বল হারানোই নয়, ম্যাচে ব্রাজিলের গোল করার দারুণ একটা সুযোগও নষ্ট করেছেন নেইমার। অবশ্য ভুলের অন্যপাশে নেইমারের সৃষ্টিশীলতার উদাহরণও তো আছে। প্রথমার্ধে নেইমারেরই পাসে কলম্বিয়া গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি লুকাস পাকেতা। ম্যাচ শেষে তাই নেইমারের সমালোচনাকে পাত্তা দিতে রাজি নন ব্রাজিল কোচ তিতে। ‘মানুষের প্রত্যাশা ও সব সময়ই চোখধাঁধানো কিছু করবে, সব সময়ই ব্রাজিলকে ম্যাচ জেতাবে। ও অসাধারণ একজন খেলোয়াড়, কারণ ও ভাবনার বাইরের কিছু করে ফেলতে পারে।’