ইভ্যালির দেনা নিরূপণে বোর্ড গঠনের অভিমত হাইকোর্টের

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর আলোচনা আসা ই- কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির দায় দেনা নিরূপণ এবং প্রতিষ্ঠানটি তদারকি করতে চার সদস্যের একটি বোর্ড গঠনে অভিমত দিয়েছে উচ্চ আদালত।

মঙ্গলবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ভার্চুয়াল একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ অভিমত দেয়।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি, একজন সচিব, একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং একজন আইনজীবী- এ চারজনের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে হাইকোর্ট। বুধবার এ বিষয়ে আদেশ হতে পারে। 

ইভ্যালি থেকে প্রতারিত এক গ্রাহকের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির যাবতীয় নথি তলব করে উচ্চ আদালত। ১২ অক্টোবরের মধ্যে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের (জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্ম) পরিদপ্তরের নিবন্ধককে এ-সংক্রান্ত নথি দাখিল করতে বলে হাইকোর্ট।

এর ধারাবাহিকতায় নথি দাখিল করা হলে মঙ্গলবার বিষয়টি ফের শুনানিতে আসে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এ এম মাছুম ও সৈয়দ মাহসিব হোসাইন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তাপস কান্তি বল। আদালতের বরাতে তাপস বল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইভ্যালির কর্মকর্তারা কারাগারে। এখন কোনো মিটিং হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির দায়-দেনা নিরূপণ করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ইভ্যালি পরিচালনায় চার সদস্যের একটি বোর্ড গঠনের কথা বলেছেন হাইকোর্ট। বুধবার এ বিষয়ে আদেশ হবে।’

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের এ কোম্পানি বেঞ্চ ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তর করা যাবে না বলে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়। একই সঙ্গে ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না সেটি জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় হাইকোর্ট।

পেশায় চিকিৎসক ফরহাদ হোসেন ইভ্যালির মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে অনলাইনে গত মে মাসের শেষ দিকে একটি ওয়াশিং মেশিন কিনতে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করেন।

কিন্তু ৪৫ দিনের পণ্য বুঝে পাওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ৫ মাসেও গ্রাহক সেটি বুঝে পাননি। পরে আইনজীবীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।

আবেদনে ইভ্যালির অবসায়ন করে একজন অবসায়ক (প্রবেশনাল লিক্যুডেটর) নিয়োগ, প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালনা বোর্ড গঠনসহ ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা চান বাদী ফরহাদ হোসেন।