রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে গত সোমবার রাত ১টায়। প্রকাশিত ফলাফলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বি-২ গ্রুপে প্রায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত দেখানো হলেও তাদের অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। ত্রুটিযুক্ত এই ফলাফল প্রকাশের পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে গতকাল মঙ্গলবার সকালেই ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল সরিয়ে নেয় কর্র্তৃপক্ষ। পরে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হলেও সমালোচনা এড়াতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ।
রাবি কর্র্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনটি গ্রুপে (বি-১, বি-২, বি-৩) ৩১ হাজার ৫১৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এই ইউনিটের গত সোমবার রাতে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, বি-২ গ্রুপে প্রায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। অথচ তাদের মধ্যে অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এরপরও অনুপস্থিত এবং আশানুরূপ ফলাফল না আসায় এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে অনেকেই ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান। বিষয়টি অবগত হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ ত্রুটিযুক্ত ফলাফল গতকাল সকালে ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেয়। পরে সংশোধনী ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে দেখা যায়, অবাণিজ্য থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ইমু সাহা নামে এক শিক্ষার্থী। প্রথম প্রকাশিত ফলাফলে তিনি ৮০ দশমিক ৩০ নম্বর পেয়ে ২৩তম হন। পরে সংশোধিত ফলাফলে তার প্রাপ্ত নম্বর দেখায় ৪৯ দশমিক ৬০ এবং মেধাক্রম আসে ২ হাজার ২০৫।
আরেক ভর্তিচ্ছু অনামিকা ইয়াসমিন রিতুর প্রথম প্রকাশিত ফলাফলে নম্বর আসে ৭১। এতে তার মেধাক্রম হয় ২৩২তম। পরে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ হলে তার প্রাপ্ত নম্বর দেখায় ৪০ এবং মেধাক্রম হয় ৩ হাজার ৪০৮তম।
ফলাফল ত্রুটির বিষয়ে জানতে চাইলে বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক জিন্নাত আরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে ফলাফলে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। পরে আমরা সেটি ঠিক করে ফলাফল প্রকাশ করেছি।’
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক বাবুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের একটু টেকনিক্যাল সমস্যা হয়েছিল। মূলত ফলাফলের মাস্টার ফাইল থেকে স্ক্যানিং করে ফল প্রকাশের উপযোগী করা হয়। কিন্তু সেটি প্রসেস করতে গিয়ে এক্সএল শিটের একটি কলাম সম্ভবত গ্যাপ হয়ে যায়। ফলে রোল নম্বরগুলো এলোমেলো হয়। এতে প্রথমে ভুলভাবে নিজের প্রাপ্ত নম্বর ও মেধাক্রম দেখতে পায়। পরে আমার মাস্টার ফাইল থেকে আবার ক্রস চেক করে নতুন করে ফলাফল প্রকাশ করেছি।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বি ইউনিটের পরীক্ষার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব সেখানকার চিফ কো-অর্ডিনেটরকে দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব। যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ এ ছাড়া জালিয়াতি চক্র যাতে কোনো ধরনের সুবিধা না নিতে পারে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।