আগামীকাল স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক টিকা

দেশে ১২-১৭ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষার্থীদের করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। প্রথম দিন পরীক্ষামূলকভাবে মানিকগঞ্জের দুটি সরকারি স্কুলের একশ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হবে। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখতে এসব শিক্ষার্থীকে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। পরে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের ১৯ জেলায় পুরোদমে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এসব শিক্ষার্থীদের ফাইজার টিকা দেওয়া হবে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান এসব তথ্য জানান।

ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, দেশে বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো ১২-১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়া হবে। মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা ফাইজারের টিকা পাবে।

মহাপরিচালক বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন শিশুদের টিকা দিতে। সে অনুযায়ী এই টিকাদান শুরু হচ্ছে। টিকা দেওয়ার পর পর্যবেক্ষণ করব কোনো প্রতিক্রিয়া হয় কি না। তারপর ঢাকায় বড় আকারে এ টিকা কার্যক্রম শুরু করব। এ ক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিবসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে সংযুক্ত হবেন।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, মানিকগঞ্জের দুটি সরকারি স্কুলের ৯ম ও ১০ শ্রেণির একশ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে এস কে সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ৫০ জন ছাত্রী ও মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ জন ছাত্র টিকা পাবেন। এসব শিক্ষার্থী তাদের জন্ম নিবন্ধন দিয়ে টিকার জন্য নিবন্ধন করবে।

এর আগে গত রবিবার মহাখালীতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জনস মিলনায়তনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, সম্প্রতি সুইজারল্যান্ড সফরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ও গ্যাভির প্রতিনিধির সঙ্গে তার কথা হয়েছে। শিশুদের টিকা দেওয়ার ব্যাপারে তারা সম্মতি দিয়েছেন। সরকারের হাতে এখন ৬০ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা রয়েছে। এই টিকা প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে স্কুলের শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেওয়া পর রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যাপকভাবে টিকা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের ১৯ জেলায় দেওয়া হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে মোট ২৬ জেলায় শিক্ষার্থীরা ফাইজারের টিকা পাবেন।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আরও জানান, নির্দিষ্ট জেলাগুলোতে ইতিমধ্যেই টিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণও তাদের দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নিবন্ধনের জন্য স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের তালিকা এনে তাদের তথ্য সুরক্ষা ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হচ্ছে। যাদের জন্মনিবন্ধন সনদ রয়েছে, তাদেরই টিকা দেওয়া হবে।