নরওয়েতে তীর-ধনুক নিয়ে হামলাকারী একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম

নরওয়ের একটি শহরে তীর-ধনুক নিয়ে হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যাকারী ব্যক্তি একজন ধর্মান্তরিত মুসলমান এবং ডেনমার্কের নাগরিক। সম্ভবত মুসলমান হওয়ার পরই তিনি উগ্রপন্থী হয়ে উঠেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

৩৭ বছর বয়সী এই ডেনিশ নাগরিক বুধবার রাতে নরওয়ের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কংসবার্গে চার নারী ও একজন পুরুষকে তীর-ধনুক নিয়ে হামলা চালিয়ে হত্যা করেন।

তাকে গ্রেপ্তার করে রাতভর কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান ওলে ব্রেড্রুপ সায়েভেরুদ বলেন, সর্বশেষ ২০২০ সালে ওই ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হয়েছিল।

নিহতদের সবার বয়স ৫০ থেকে ৭০ এর মধ্যে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ১২মিনিটে এ হামলা শুরুর ছয় মিনিট পরে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হয়, কিন্তু তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের দিকেও তীর ছুড়েছিলেন, যার জবাবে পুলিশ সতর্কীকরণ গুলি করেছিল। এরপর লোকটি পালিয়ে যায় এবং আক্রমণ শুরু হওয়ার ৩৫ মিনিট পর্যন্ত ধরা পড়েনি। এর মধ্যেই সে পাঁচজনকে হত্যা করে ফেলে।

পুলিশ প্রধান বলেন, পাঁচজন ভুক্তভোগীই সম্ভবত পুলিশের প্রথম মুখোমুখি হওয়ার পর নিহত হয়েছেন।

দেশটির বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ, এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

হামলাকারী কংসবার্গের পশ্চিম পাশের একটি কুপ এক্সট্রা সুপার মার্কেটের ভেতরে প্রথম হামলা চালায় বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে একজন ছিলেন ডিউটি পুলিশ অফিসার, যিনি ওই সময় দোকানে ছিলেন।

ওই অফিসার এবং আহত আরেকজন ব্যক্তি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

২০১১ সালের জুলাই মাসে ডানপন্থী চরমপন্থী অ্যান্ডার্স বেহরিং ব্রেভিক উটোয়া দ্বীপে ৭৭ জনকে হত্যার পর থেকে নরওয়ের সবচেয়ে মারাত্মক হামলা ছিল বুধবারের এই হামলা।

 

‘সম্পূর্ণ অকল্পনীয় হামলা’

কংসবার্গের মেয়র কারি অ্যানি স্যান্ড বলেন, এটি একটি মর্মান্তিক আক্রমণ, যা এমন একটি এলাকায় ঘটেছে যেখানে অনেক মানুষ বাস করত।

শহরটিকে ‘সম্পূর্ণ সাধারণ মানুষের একটি সম্পূর্ণ সাধারণ জনগোষ্ঠী’ হিসেবে বর্ণনা করে মিসেস স্যান্ড বলেন, ‘এই অত্যন্ত দুঃখজনক পরিস্থিতি’ দেখে সবাই গভীরভাবে হতবাক হয়ে গেছে।

সন্দেহভাজনকে ড্রামেন শহরের একটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে তিন ঘন্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং সে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছিল।

এই হামলাকারী একজন ডেনিশ মা এবং নরওয়েজিয়ান বাবার সন্তান।

পুলিশ প্রসিকিউটর অ্যান ইরান সোভেন ম্যাথিয়াসেন টিভি ২ কে বলেন, ওই ব্যক্তি বেশ কয়েক বছর ধরে কংসবার্গে বসবাস করছিলেন।

এরনা সোলবার্গের রক্ষণশীল সরকারের শেষ দিনে এই হামলা হয়েছে এবং শ্রমিক নেতা জোনাস গাহর স্টোরের নেতৃত্বাধীন নতুন মধ্য-বাম জোট সরকারের একজন নতুন বিচারমন্ত্রী বৃহস্পতিবার মামলাটি গ্রহণ করেছেন।

মিস্টার স্টোর তার নতুন মন্ত্রীসভা ঘোষণার আগে বলেছেন যে, এটি ‘গর্হিত এবং নৃশংস কাজ’।

নরওয়েজিয়ান পুলিশরা সাধারণত সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র রাখেন না। তবে এই হামলার পর দেশব্যাপী সকল কর্মকর্তাকে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।