ভারতের দিল্লির সিংঘু সীমানায় কৃষক আন্দোলনের মঞ্চের কাছের পুলিশের ব্যারিকেডে এক যুবককে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। শুক্রবার সকালে পুলিশ ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। মৃতদেহটির একটি হাত কবজি থেকে কেটে নেওয়া হয়েছিল। গোড়ালি থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে পায়ের একটি পাতাও। খবরঃ এনডিটিভি অনলাইন।
মৃতদেহটি যেখানে পাওয়া গেছে, তার অদূরে কৃষক আন্দোলনের মঞ্চ। মঞ্চের কাছে রাখা পুলিশের ব্যারিকেডকে উল্টো করে তার গায়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল দেহটি। শুক্রবার ওই দেহ ঘিরে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে কৃষকদের মধ্যে।
পুলিশ এই ঘটনায় অপরিচিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ঘটনাটির তদন্তও শুরু করেছে। তবে কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায়নি।
বেশ কয়েকটি ভিডিও শুক্রবার সকালে ভাইরাল হয়েছে। তার একটিতে দেখা যাচ্ছে পঞ্জাবি নিহাং সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ এক যুবকের উপর অত্যাচার করছেন। মাটিতে ফেলে মারধর করা হচ্ছে ওই যুবককে। তবে এই ভিডিওর যুবকই মৃত ব্যক্তি কি না, সে ব্যাপারে তদন্তকারীরা নিশ্চিত নন। তাই ভিডিও নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চায়নি স্থানীয় কুন্দলি থানার পুলিশ। ভিডিওগুলির সত্যতা এনডিটিভি অনলাইন যাচাই করতে পারেনি।
শুক্রবার একটি বিবৃতি দিয়ে কুন্দরী থানার পুলিশ সুপার হংসরাজ জানিয়েছেন, ‘দেহটি ৩৫ বছরের এক যুবকের। শুক্রবার ভোর পাঁচটা নাগাদ ওই মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত ব্যক্তির কাটা হাতটি তার দেহের পাশেই ঝুলিয়ে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনা সংক্রান্ত ভাইরাল ভিডিওটি এখনও তদন্তাধীন।’
পঞ্জাবি যোদ্ধা সম্প্রদায় বলে নিজেদের দাবি করে নিহাংরা। ভাইরাল হওয়া আরও একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক যুবককে উল্টো করে পুলিশের ব্যারিকেডের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা। আতঙ্কে চোখ মুখ বিকৃত হয়ে যাচ্ছে যুবকের। তাঁর কাটা হাত থেকে অঝোরে রক্ত পড়তে দেখেও সাহায্য করতে এগিয়ে আসছেন না কেউ। নির্মমতার ওই ভিডিও এবং মৃতদেহটি ঘিরে দিল্লিতে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়েছে।